ভুমিহীন পরিবাররতন সিং, দিনাজপুর থেকে ॥ দিনাজপুরে খাস জমি থেকে ৬০টি ভুমিহীন পরিবারকে আওয়ামী লীগের নেতা উচ্ছেদের পায়তারা করলে বসবাসকারীরা তীর, ধনুক ও লাঠি-সোঠা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। রাত জেগে সবাই মিলে পাহারা বসিয়েছে।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামের ভূমিহীন ৬০ পরিবার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২৬ একর জমিতে দীর্ঘদিন বসবাস ও আবাদ করে আসছেন। অভিযোগে প্রকাশ, আওয়ামীলীগ নেতা এমদাদুল হক চৌধুরী তাদেরকে উচ্ছেদের জন্য ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে পায়তারা করছেন।

জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার উপক্রম হয়। পুলিশের দ্রুত উপস্থিতির ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। তবে এখনও তীব্র  উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির দখলদার ও গ্রামবাসী তীর, ধনুক ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সবাই মিলে দিন-রাত পাহারা বসিয়েছেন। প্রায় ২ শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে জমির ধান কাটতে গেলে প্রতিরোধের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগ নেতা।
[ads1]
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন।

জানা গেছে, উক্ত ২৬ একর জমির মূল মালিক ছিলেন পার্বতীপুর শহরের জোতদার হনুমান প্রসাদ। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তিনি ভারতে চলে গেলে ওই জমি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। পরবর্তীতে জমির আধিয়ারগন লীজ গ্রহন করে দীর্ঘদিন থেকে ভোগদখল করে আসছিলেন।

জমির মালিকানা দাবিদার আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, আমি হাসিনা বেগম, আমিনা বেগম ও ফিরোজা বেগমের নিকট থেকে এ জমি ক্রয় করেছি।

জমি ব্যবহারকারী অনন্ত রায় ও বিনয় জানায়, এমদাদ চৌধুরী কৌশলে হাসিনা বেগমের নামে ১৯৬৫ সালে মূল মালিক হনুমান প্রসাদের কাছে ৬শ টাকায় ২৬ একর জমি ক্রয়ের জাল দলিল করেন। বাবুপাড়া গ্রামের ভুমিহীনদের বিরুদ্ধে তিনি ১০/১২টি মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করছেন।

এব্যপারে পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, উভয় পক্ষকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ নিজ কাগজপত্রসহ থানায় আসতে বলা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লে¬খ করেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য