বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব কেঁচো সারসোনার হরিণ নামক চাকুরীর সন্ধানে শিক্ষিত বেকার যুবক মামুনুর রশিদ এক সময় হন্যে হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঁঝাপ করছিল। চাকুরীরর দেখা না পেয়ে কৃষক পুত্র উপায় খুঁজতে থাকে কিভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যায়।

এমন সময় কাউনিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক তার বাবার জমির ধান ক্ষেত দেখতে আসলে তার সাথে পরিচয় হয় মামুনের। সে তার কাছে জানতে চায় কৃষি দিয়ে কিভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যায়।

এমদাদুল তাকে জানায় পরিবেশ বান্ধব কেঁচো সার কম খরচে উৎপাদন করে একদিকে যেমন প্রচুর আয় করা যায়, অন্যদিকে কৃষিতে ব্যপক অবদান রাখাও সম্ভব হয়।

সে কথা মাথায় রেখে ২০১২ সালের জুলাই মাসে প্রথম সে আইএপিপি প্রকল্পের আওতায় দলভুক্ত হয়ে ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষন গ্রহন করে। প্রশিক্ষন শেষে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে ৪ শ’কেঁচো প্রদান করে। এর পর পরীক্ষা মূলক ভাবে তার বাড়ির উঠানের এক কোনায় কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ শুরু করে।

ওই সার নিজেদের জমিতে প্রয়োগ করে ভাল ফলাফল পেয়ে ২০১৩ সালে সে বানিজ্যিক ভাবে সার উৎপাদনের কাজ শুরু করে। এর পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১৫ সালে এ পর্যন্ত তার খামারে ৫০ মেট্রিকটন সার উৎপাদন হয়। এর মধ্যে তার নিজের জমিতে ১০ মেট্রিকটন,পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে ৫ মেট্রিক টন সার ব্যবহার করে।

বাকি ৩৫ মেট্রিকটন সার বানিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন চাষিদের কাছে ১০টাকা কেজি দরে বিক্রয় করে আয় হয় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা এছাড়াও কেঁচো বিক্রয় করেছে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মতো।

এ সার উৎপাদনে তার সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। এ ভাবেই মামুন তার সাফল্য গাঁথা তুলে ধরেন এ প্রতিবেদকের কাছে। মামুন আরও জানায় তার খামারে বর্তমানে ৩০টি রিংএ ৬০ কেজির মতো কেঁচো সার উৎপাদন করে চলছে এবং ৬০ কেজি কেঁচো বিক্রয়ের জন্য মজুত রয়েছে।

সে বর্তমানে বাজার থেকে প্লাসটিকের ছোট ছোট বস্তা এনে ১০ কেজি করে সার প্যাকেট জাত করে বিক্রয় করছে। সরেজমিনে মামুনের খামারে গিয়ে দেখা গেছে সে নিজে ও কয়েকজন শ্রমিককে সাথে নিয়ে সার প্রক্রিয়াজাত করছে।

তার উৎপাদিত সার এলাকায় ব্যাপক সারা ফেলেছে। মামুন এখন এলাকায় কেঁচো সার উৎপাদক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এসে সার কিনে নিয়ে গিয়ে জমিতে প্রয়োগ করছে।

তার সাফল্য দেখে এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক এ সার উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েছে। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান জানান,মামুনুর রশিদ এখন সার উৎপাদক হিসেবে কাউনিয়ায় রোল মডেলে পরিনিত হয়েছে।

তার দেখা দেখি অনেক কৃষক এ সার উৎপাদনে এগিয়ে এসছে। এ সারের গুনাগুন সর্ম্পকে তিনি আরও জানান,কম খরচে উৎপাদিত এ সার একদিকে যেমন পরিবেশ বান্ধব অন্যদিকে ফসল উৎপাদনে অগ্রনী ভ’মিকা পালন করে।

এ সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি,মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি,মাটির স্বাস্থ্যর উন্নতি ঘটায়,রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমায়,ফসলে রোগবালাই প্রতিরোধে ভুমিকা রাখে,গাছ দ্রুত বৃদ্ধিতে ও মাটির তাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে।

এ জন্য কেঁচো সারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য