রহস্যজনক মৃত্যুআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানায় কর্মরত কনস্টেবল পরিমল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণা রায় (২৫) ও তার ২০ মাস বয়সী মেয়ে অর্পিতা রাণীর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বামনজল এলাকায় নিজ বাসায় মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। কনস্টেবল পরিমল সুন্দরগঞ্জে যোগদানের পর থেকে ওই এলাকার জনৈক পরিমল চন্দ্র সরকারের বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সকালে কৃষ্ণা রায়ের গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। কনস্টেবল পরিমল ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার আকাশীল গ্রামের মৃত অক্ষয় কুমারের ছেলে। তার স্ত্রী কৃষ্ণা রায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কালিতলাগাও গ্রামের মৃত নলিনী কান্ত রায়ের মেয়ে।

থানা সুত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল পরিমল চন্দ্র অন্যান্য দিনের ন্যায় স্ত্রী কৃষ্ণা রায় ও তার শিশু কন্যা অর্পিতা রায়কে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে পরিমল ঘুম থেকে জেগে দেখতে পান তার মেয়ে অর্পিতা রায় বিছানায় মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ সময় তিনি স্ত্রী কৃষ্ণাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে ঘবের বাইরে তাকে খুঁজতে বের হন। তিনি বাইরে এসে রান্নাঘরের ধরনার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় কৃষ্ণা রায়ের লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। এলাকাবাসি জানান, পরিমলের সাথে তার স্ত্রী কৃষ্ণার মাঝেমধ্যেই ঝগড়াঝাটি হতো। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসরাইল হোসেন জানান, খবর পেয়ে কৃষ্ণা রায় ও অর্পিতার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অর্পিতার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। পোষ্টমর্টেমের রিপোর্ট পাওয়া গেলে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে কারও কারও মতে পারিবারিক কলহের কারণে কৃষ্ণা রায় তার মেয়ে অর্পিতাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার পর নিজে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসরাইল হোসেন অস্বাভাবিক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তে ঘটনাটি হত্যাকান্ড হয়ে থাকলে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হবে। তবে কী কারণে কৃষ্ণা রাণী গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি সেব্যাপারে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য