কাউনিয়ায় আগাম আলু রোপন উৎসবে মহাব্যস্ত চাষীরাগত বোরো মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বুক ভরা আশা নিয়ে কাউনিয়ার চাষীরা আগাম আলু রোপনে মহাব্যস্ত সময় পার করছে। চাষীদের পাশাপাশি গৃহবধূঁরাও এ কাজে সহায়তা করছে মনে প্রানে । কোন কোন চাষি ইজতেমার বাজার ধরার আশায় ও বেশি দাম পাওয়ার আশায় আলু রোপনে ঝুঁকে পড়েছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তিস্তা নদী বেষ্ঠিত চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন গ্রামে আগাম জাতের বিনা-৭ ও ব্রি-৩৩,৩৯, জাতের ধান কাটার পরপরই দ্রুত জমি চাষ-বাস করে আলু রোপন শুরু করেছে কৃষকরা। নাজিরদহ গ্রামের আলু চাষী আলমগীর হোসেন ও ঢুসমারা চরের নজরুল ইসলাম রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় জানান, গত বছরত আগাম আলু লাগাছনু তাত কিছুটা ভাল দাম পাইছো, তাই ওই আসায় এবারো হামরা আগাম গ্রান্যুলা, কুপড়ি, ডায়মন্ড, কার্ডিলাল, রাজা, লরা, স্টিক,বগুড়াই দেশী জাতের শিলবিলাতী আলু লাগাইছি, আল্লায় ভাল জানেন কপালত কি আছে। তিনি আরো জানান, গত মৌসুমে আগাম আলু প্রতি বস্তা ১৭ থেকে ১৮শ টাকা দরে বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা ৫শ থেকে ৬শ টাকা দরে।

এ কারণে আগাম আলু রোপন করছি, ভাল দাম পাওয়ার আশায়। পল্লীমারী গ্রামের চাষী নজরুল ইসলাম জানান, গত বছর ৮ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু রোপন করলেও এবার তিনি সর্বোচ্চ ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরো জানান পরপর ৩ বার আলু চাষে করে পুঁজি হারিয়ে ঋণ গ্রস্থ হয়েছি। তাই এবার আর আলু চাষে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না।

গত মৌসুমে কম দামে আলু বিক্রি হওয়ায় এবারে এ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা শামীমুর রহমান জানান, এবারে এ উপজেলায় আগাম জাতের ডায়মন্ড ও স্টাটিজ ১ হাজার হেক্টর জমিতে এবং ৪ হাজার ২শ” ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলসহ কিছু কিছু উঁচু জমিতে আগাম আলু রোপন শুরু হয়েছে। তবে পুরো দমে আলু রোপন শুরু হবে ১৫ নভেম্বরের পরে। সব মিলিয়ে কাউনিয়া উপজেলায় আলু রোপন উৎসব শুরু হয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য