08আন্তর্জাতিক: ভারতেরবিহারে গঠিত হলো নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে আর জে ডি-জে ডি ইউ জোটের মন্ত্রিসভা। মোদি-অমিতের বিহার দখলের আগ্রাসী অভিযান রুখে দিয়ে লালু-নীতীশের মহাজোট ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী সহিষ্ণু ভারতকে শুধু স্বস্তিই দেয়নি রীতিমতো আশার উদ্রেক করেছে।

স্বাভাবিকভাবেই নতুন এই বিজয়ী জোটের সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বিহারের গ-িতে আবদ্ধ থাকেনি, নিয়েছে এক সর্বভারতীয় চেহারা। জাতীয় এবং আঞ্চলিকস্তরের সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি যেমন উপস্থিত ছিলেন তেমনি বাদ যাননি কেন্দ্রীয় শাসক জোটে বিজেপি-র শরিক নেতারাও। উপস্থিত ছিলেন প্রায় অধিকাংশ বিজেপি বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী। ফলে বিহারের মহাজোটের সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান যেন হয়ে ওঠে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ। বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের দু’জন প্রতিনিধি হাজির থাকলেও এই অনুষ্ঠানে তাদের মনে হয়েছে প্রায় নিঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্ন এবং একাকী।

মোদদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে বিজেপি-র সরকার গঠনের পর দিল্লিতে বিজেপি-র পরাজয় ঘটলেও বিজেপি যেভাবে গোটা দেশে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে তাতে এমন একটা ধারণা জন্ম নিতে শুরু করে বিজেপি-কে বোধ হয় আর ঠেকানো যাবে না। মোদি-অমিত জুটি মিলে বোধ হয় গোটা দেশটাকেই পদানত করবে এবং হিন্দুত্বের দৌরাত্ম্যে নাভিশ্বাস তোলা হবে সাধারণ মানুষের।

সন্দেহ নেই আরএসএস-র মতাদর্শগত ও সাংগঠনিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল দ্রুততার সঙ্গে একটার পর একটা রাজ্য দখল করে হিন্দুত্বের জোয়ারে গোটা দেশকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া যাতে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে আর কোন বাধা বিপত্তি না থাকে। অন্যদিকে দেশি-বিদেশি কর্পোরেটপ্রিয় মোদির লক্ষ্য ছিল বিহার দখল করে উত্তর প্রদেশের রাস্তা প্রশস্ত করা। বিহারে বিধায়ক সংখ্যা বাড়লে সেই সুবাদে রাজ্যসভায় বিজেপি-র সদস্য বাড়বে। বর্তমানে রাজ্যসভায় বিজেপি সংখ্যালঘু। ফলে কর্পোরেট স্বার্থে সংস্কারের জন্য বিভিন্ন বিল পাশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই এই মুহূর্তে মোদির কাছে সবচেয়ে জরুরি রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। বিহারে জিতলে সেই যাত্রা সুগম হবে। তেমনি বিহারে জিতলে কয়েক মাস পর উত্তর প্রদেশ-সহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোটে জয়ের জন্য অশ্বমেধ ঘোড়া ছোটানো যাবে। তখন লোকসভা ও রাজ্যসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে হিন্দুত্ববাদী ও কর্পোরেট পুঁজিবাদী যেকোনো আইন পাশ করানো যাবে চোখ বুজে।

এমন এক বৃহত্তর পরিকল্পনার গনগনে আঁচে রীতিমতো জল ঢেলে দিয়েছে বিহারের মানুষ। তারা শুধু মোদি-অমিত নেতৃত্বাধীন বিজেপি-কে পরাজিতই করেনি একেবারে গোহারা হারিয়ে ছেড়েছে। মোদি নিজে বিহারে গিয়ে ৩০টি জনসভা করে উন্নয়নের গল্প শুনিয়েছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন। প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিরোধীদের নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছেন। বিরোধী নেতাদের ব্যক্তিগতভাবেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। অমিত শাহ করেছেন ৮৫টি সভা।

উন্নয়নের গল্পের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ধর্মীয় মেরুকরণে জোর দিয়েছেন দু’জনেই। কিন্তু বিহারের মানুষ সেই শয়তানির আঁচ পেয়ে মুখের মতো জবাব দিয়েছেন। বিজেপি বিরোধী জোটের এই জয় নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীদিনে সারা দেশেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে আন্দোলনে ও জনমত গঠনে এই জয় প্রভাব ফেলবে। এরপর যে সব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে সেখানে বিজেপি-কে কোণঠাসা করতে বিহারের সাফল্য কাজে লাগবে। তবে জয় করা এবং সরকার গঠনই শেষ কথা নয়। ভবিষ্যতে কোন্ পথে চলবে বিহার? নতুন সরকারকে জনমুখী নীতি নিয়ে সত্যিকারের উন্নয়নের কাজ করতে হবে। নচেৎ এই জয়ের সার্থকতা থাকবে না।- সংবাদমাধ্যম
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য