06আন্তর্জাতিক: সন্ত্রাসী হামলার পর টেলিভিশনে ভাষণ দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলন্দ। মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাবনা পেশ করেছে ফ্রান্স।

বিবিসি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট সংবাদমাধ্যম বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে জনসমর্থন আদায়ে এটি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলন্দের কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভালস জানিয়েছেন, ইউরোপে শরণার্থীদের প্রবেশের সুযোগ নিয়ে প্যারিস হামলায় জড়িতদের কয়েকজন ফ্রান্সে প্রবেশ করেছিল।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর জানা গেছে, এই হামলার সন্দেহভাজন মূল পরিকল্পনাকারী আবাউদ ফ্রান্সে প্রবেশ করেছিল গ্রিস হয়ে। তবে তিনি শরণার্থী ছিলেন কিনা তা জানা সম্ভব হয়নি।

গেল শুক্রবার প্যারিসের বাটাক্লঁ কনসার্ট হলে ভয়াবহ রক্তাক্ত সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্সের দাঙ্গা পুলিশ এলাকাটিতে অবস্থান নেয়। ছবি: রয়টার্স গেল শুক্রবার প্যারিসের বাটাক্লঁ কনসার্ট হলে ভয়াবহ রক্তাক্ত সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্সের দাঙ্গা পুলিশ এলাকাটিতে অবস্থান নেয়। ছবি: রয়টার্স বুধবার এই আবাউদকে ধরতে প্যারিসের শহরতলীতে অভিযান চালায় ফরাসি নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। অভিযানে নিহত দুই ব্যক্তির একজন ছিলেন আবাউদ।

প্যারিসে হামলার পর গেল শুক্রবার থেকে ফ্রান্সে জারি করা জরুরি অবস্থা অন্ততপক্ষে তিনমাস বাড়ানো হতে পারে বলেও জানা গেছে।

এরআগে মিশরের সিনাইয়ে রুশ যাত্রীবাহী বিমান সন্ত্রাসী হামলার কারণেই বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। এই হামলা আইএস চালিয়েছিল বলে শুরু থেকেই জঙ্গি এই গোষ্ঠীটি দাবি করেছিল। এতে বিমানটির সব আরোহী নিহত হন।

কিন্তু শুরুতে বিষয়টি উড়িয়ে দিলেই নানা ধরনের পরীক্ষা ও তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া গেছে সিনাইয়ের আইএস সমর্থিত জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পেতে রাখা বোমাতেই রুশ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমানটির অধিকাংশ যাত্রীই রুশ। এই ঘটনার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন আইএসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে, সম্প্রতি আইএস দুই অপহৃত ব্যক্তির শিরñেদ করেছে বলে জানিয়েছে। দুই ব্যক্তির একজন নরওয়ের নাগরিক এবং অপরজন চীনের নাগরিক।

চীনা নাগরিককে হত্যার মধ্যদিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্রের সবগুলো দেশেরই কোন না কোনো নাগরিককে হত্যা করল।

আর এ কারণেই ফ্রান্সের এই খসড়া যুদ্ধকৌশলগত প্রস্তাব রাশিয়া কিংবা চীনের ভেটোর শিকার হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিস দেলাত্রি বলেন, খসড়া এই প্রস্তাবনা খুবই সংক্ষিপ্ত কিছু শক্তিশালী। এতে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য বর্ণিত হয়েছে আর তা হচ্ছে আমাদের সবার কমন শত্রু আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।

তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য নিরাপত্তা পরিষদের সব অংশিদারদের সঙ্গে নিয়ে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাত্ব হবে বলে আশা করছি।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলন্দ আসছে সপ্তায় ওয়াশিংটন সফর করার পর মস্কোও সফর করছেন। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর একটি যৌথ জোট গঠনের লক্ষ্যেই তার এই সফর।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য