Azad Jewel Picture-2আজহারুল আজাদ জুয়েল, দিনাজপুর ॥ বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক কিংবা স্মৃতি সৌধের নাম বিবর্ণ হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাও বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই স্মৃতিফলকগুলোকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা দরকার।

প্রফেসর ড. হারুন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিরল উপজেলার বহলা বধ্যভূমি পরিদর্শনে এসে একথা বলেন। বধ্যভূমিতে শহীদ পরিবারদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে, ২ লক্ষ ৭৬ হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা এসেছে তা ধরে রাখার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ইতিহাস লিখে রাখতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দরিদ্র হলেও তারা এমন এক মর্যাদার অধিকারী যা আর কেউ কখনো পাবে না। পৃথিবীর খুব কম জাতি আছে যারা সশস্ত্র লড়াই করে স্বাধীন হয়েছে।

এই স্বাধীনতা এসেছে বলেই বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশী মর্যাদার অধিকারী হয়েছে। পাকিস্তানে মসজিদে বোমা পড়ে, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে হত্যা করে। এই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত আছে এবং সর্বক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশী উন্নতি লাভ করেছে। এটাকে ধরে রাখতে হবে।

বিরল উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খায়রুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিরল উপজেলা কমান্ডার আবুল কাশেম অরু, বিজোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং শহীদ সন্তান আমজাদ হোসেন, বহলা গণহত্যায় নির্যাতিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম, বিরল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং “এনসাইক্লোপিডিয়া অব বাংলাদেশ ওয়্যার অব লিবারেশন” এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক প্রফেসর শাহজাহান মিয়া ও কেবিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুদ্দিন আহমেদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভার আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদ শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য