Saidpur Municipal Election Candidateমো. জাকির হোসেনঃ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী উৎসবে মেতে উঠেছেন। প্রথম দফায় সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ডিজিটাল ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছে, পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারণায় নেমেছেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তারা এবং এলাকায় ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছেন। শ্রেণি ভেদে চলছে সালাম- আদাব। জনবহুল এলাকাগুলোতে প্রার্থীর ভালোমন্দ দিক নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে এমন ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন পেতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ দলীয় প্রার্থীর নিশ্চয়তার জন্য হাইকমান্ডেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হলেও পৌরসভার নির্বাচন এবারে দলীয় ব্যানারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই দলীয় সমর্থন পেতে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের কাছে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তৃণমুল নেতাদের তুষ্ট করতে ছুটছেন তাদের বাড়ি বাড়ি। প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা।

রাজনৈতিক দলের ব্যানারে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি তাদের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে তৃণমুল নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে। আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। কোথাও কোথাও ওয়ার্ডে যোগ্য প্রার্থী মিলছে না বলে জানা গেছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সব মিলে প্রার্থীতা নিয়ে স্বস্তিতে নেই কোন প্রার্থী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সমেমলন না হওয়া এবং বিএনপি রাজনৈতিক জেলা শাখার সম্মেলন হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও এক দল আরেক দলের প্রতি এখনও অসহিষ্ণু হয়ে উঠেনি।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার পুনরায় মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। তবে মামলার কারণে কোন সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে মেয়র পদে বিএনপি রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বা অন্য কেউ বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হতে পারেন। অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, মানুষের ভুলভ্রান্তি হবে কারণ মানুষ ফেরেস্তা নয়-আর আমিও মানুষ, আমারও ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আমি সৈয়দপুর পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেছি। নির্মিত হচ্ছে নতুন পৌরভবন। নোংরা শহর থেকে শিক্ষার শহরে পরিচিতি লাভ আর পৌর বৃত্তির প্রচলন করা হয়েছে। সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, গোলাহাট বালিকা বিদ্যালয়, মকবুল হোসেন বিএম কলেজ, সৈয়দপুর আসমতিয়া দাখিল মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া সৈয়দপুর মহিলা কলেজকে ডিগ্রি কলেজে এবং গোলাহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও সানফ্লাওয়ার স্কুলকে কলেজে উন্নীত করা হয়েছে। পৌরবাসীর সুবিধার জন্য স্ট্রীট লাইট, ড্রেন ও রাস্তা সংস্কার প্রভৃতি কাজ করা হয়েছে।

আগামিতে নির্বাচিত হলে তিনি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, বিনোদন পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, অত্যাধুনিক একটি স্কুল ও কলেজ, আয় বাড়ানোর জন্য সাপ্তাহিক হাট, ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়ন, পৌরসভার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স, পৌরবাসীকে অনলাইনের আওতায় আনা, পৌর পরিষদের মাসিক সভা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত, জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন উন্নযনমুলক কাজ করবেন বলে জানান।

আওয়ামী লীগের ব্যানারে সাবেক পৌর মেয়র, নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলীয় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি এর আগেও একবার পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নির্বাচিত হলে ৩ মাসের মধ্যে শিশু পার্ক নির্মাণ করবেন। এছাড়া ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, বাস টার্মিনালের আধুনিকায়ন, ঢাকা কোচের যাত্রীদের স্ট্যান্ড সমস্যান সমাধান করবেন। তিনি বলেন, পৌরবাসীদের ড্রেনেজ সমস্যায় ড্রেন নির্মাণ, নতুন রাস্তা তৈরি করবেন। সেই সাথে শহরের ভয়াবহ যানজট সমস্যার সমাধানে আন্তরিক থাকবেন। পৌরসভা ও রেলওয়ে জায়গা নিয়ে রশি টানাটানির অবসান ঘটাবেন। এবারও পৌরসভার বাঙালি- বিহারী ভোটার তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন করতে পারেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, নীলফামারী জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাবেক প্যানেল মেয়র হিটলার চৌধুরী ভলু, কৃষক লীগের পিকে ছাইদুল। আর জাতীয় পার্টি থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিদ্দিকুল আলম ও বিশিষ্ট ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে আভাষ পাওয়া গেছে। এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকুল আলম জানান, জোটগতভাবে তাকে প্রার্থী করা হলে তিনি নির্বাচন করবেন। তা না হলে জাতীয় পার্টি থেকে তিনি নির্বাচন করবেন না বলে জানান।

জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে এই দলের প্রার্থী হিসেবে পৌর শাখার আমির হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। শহরজুড়ে এই প্রার্থীর পোষ্টার, স্টিকার চোখে পড়ে। দলের তৃণমুল পর্যায়ের নেতা- কর্মীরা বসে নেই। তারা প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম জানান, তিনি নির্বাচিত হলে বিধি অনুযায়ী পৌরসভা পরিচালনা করবেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক পরিষদ গঠন করবেন। সকল সরকারি- বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে সমন্বয় সভা করাসহ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। অবাঙালিদের অধিকার উন্নয়নে নিরলস কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিত না। ফলে জোটগত কারণে তাদের ভোট বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর বাক্সে পড়তো। এক্ষেত্রে বিএনপি- জামায়াতের ভোট ভাগাভাগির কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে যাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে এবার সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। এলাকায় শোভা পাচ্ছে তাদের ডিজিটাল ব্যানার আর দোয়া চেয়ে লাগানো পোষ্টার। কর্মীবাহিনী গঠন করে ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের জন্য আত্বীয়তা ঝালাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ভোটার তালিকার হালনাগাদ অনুযায়ী,  সৈয়দপুর পৌর এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮০ হাজার ৩৪৩ জন। এরমধ্যে ৪০ হাজার ৮৬৭ জন পুরুষ ও ৩৯ হাজার ৪৭৬ জন নারী ভোটার রয়েছে। ভোটারদের মধ্যে উর্দুভাষী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। স্বাধীনতার পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবকটি নির্বাচনই উর্দুভাষী ভোটাররা প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে বড় নিয়ামক বা ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এসব মানুষকে পক্ষে নেয়ার জন্য কাজ করেন সবাই। ফলে প্রচার-প্রচারণা বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে চলে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য