rowmari picture 10-11-2015সাখাওয়াত হোসেন সাখা ॥ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা দাঁতভাঙ্গা ইউপির সদস্যরা অসহায়,গরীব,দু:স্থ বয়স্ক ভাতার সদস্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০-২০টাকা করে আদায় করেছে। অসহায়, গরীব, দু:স্থ ভুক্তভোগীরা জানায়,সরকার আমাদের জন্য মাসিক ৪০০ টাকা করে ধার্য করেছে। আমাদের ৩ মাস পরপর সোনালী ব্যাংক শাখার মাধ্যমে ১২০০ করে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে স্থানীয় মেম্বার ইছানুল হক,মিজানুর রহমান,আক্তার হোসেনসহ অন্য দালালরা এ ভাবে গরীব লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন,ইউনুছ আলী,সাহেবানু,ছকিবর রহমান,সোনাহার আলী, জমিরন, জাহিদুল, ছামিউল, সলেমান, সমিলা, তারা মিয়া, সাহেতন, কছর আলীসহ ৭৩৯ জনের কাছ থেকে এভাবে জোর পুর্বক টাকা আদায় করেছে। এই তিন মেম্বার তারা নিজের ইচ্ছা মতো কাউকে তোয়াক্কা না করে অসহায়,গরীব মানুষের কাছ টাকা আদায় করে। টাকা আদায়ের খবর পায় স্থানীয় সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সাখা। পরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অসহায়,গরীব মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে ঐ তিন মেম্বার। সেই তিন মেম্বারকে টাকা নেয়ার বিষয়ে জিঙ্গাসা করলে কোন উত্তর দেয়নি। পরে স্থানীয় অসহায়,গরীব লোকদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, কয়েদিন আগে এগ্যলে মেম্বরকে ভোট দিলুম। আর এহন খালি টাকা চায়। ২০ টাকা করে না দিলে আমাগো বয়স্ক ভাতা দিবো না ওরা বলে।

ঐ সাংবাদিক রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করলে, তাৎক্ষনিক ভাবে ঐ তিন মেম্বারকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বলে। ৭৩৯ জনের কাছ থেকে এ ভাবে টাকা আদায় করেছে। কিন্তু ঐ টাকা ফেরত দেয় মাত্র ৩০ জনকে। আর বাকী টাকা পকেটস্থ করেন ঐ তিন মেম্বার ইছানুল হক,মিজানুর রহমান,আক্তার হোসেন। আরো ৭০৯ জনের টাকা ফেরতের বিষয়ে বললে যে,আমরা তো টাকা সব ফেরত দিয়েছি। আর আমাদের কাছ আর কোন টাকা নেই। কিন্তু অনেকে জানান, যে আমরা তো ২০ টাকা ফেরত পায়নি। আমাগো টাকা ফেরত না পেলে বড় স্যারের কাছে যাবো। ভুক্তভোগীরা আরো জানায়, আমরা অসহায় ,গরীব মানুষ।

সরকার আমাদের বয়স্ক ভাতার টাকা ধার্য করেছে তা সীমিত। আমাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে গেলে আর খাওয়ার পয়সা থাকে না অথচ এই মেম্বররা আমাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছে। স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগ ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মোজাফর হোসেন তাদেরকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বলে না দিলে আমি আপনাদের নামে উপজেলা বরাবর অভিযোগ করবো।  আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূর্নীতি বন্ধ করতে বিভিন্ন দূর্নীতি দমন কমিশিন গঠন করে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, আমি মোবাইল ফোনে অনেক অসহায় গরীব মানুষ আমার সাথে কথা বলে, যে ২০ টাকা করে তারা ঘুষ নিচ্ছে। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ করে নাই তবে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য আমি বলেছি।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য