ক্যামেরায়ঃ আজাদ জয়।

ক্যামেরায়ঃ আজাদ জয়।

সুবল রায়, দিনাজপুরঃ উৎপাদিত মালামালের ব্যবপক চাহিদা থাকলেও সরকারী উদ্যোগ না থাকায় দিনাজপুরের কামার শিল্পের চরম দুর্দিন চলছে। পুজি সংকট লোহার দাম বৃদ্ধি ও পাথর কয়লা দুষ্পাপ্য হওয়ায় প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারছেনা। ফলে দিনাজপুরে সহস্র বছরের কামার শিল্প মুখ থুবড়ে পরেছে।

মাছ কাটতে বঠি, ধান কাটতে কাচি, মাংস কাটতে চাপড়, কাঠ কাটতে করাত, মাটি কাটতে কোদাল আর পেরেক ঠুকতে হাতুরি এসব দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজন হয় লোহার তৈরী সামগ্রী। এসব জিনিস আমাদের জীবনের সাথে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অঙ্গা-অঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে। সামাজীক জীবন, কৃষিকাজ কিংবা আধুনিক নগর গড়তে অনাদি কাল থেকে লোহার ব্যাবহার হয়।

মানুষের জীবন ও মান গড়তে লোহার ব্যবহার অস্বিকার করা যায়না। কিন্তু কয়লা কামার শিল্পের প্রধান উপাদান। ১৯৭৫ সালের পর পাথর কয়লা এদেশে দুঃপ্রাপ্য হয়ে উঠেছে। এখন দিনাজপুরে কয়লার খনিতে প্রচুর পাথর কয়লা পাওয়া গেলেও কামারদের ভাগ্যে তা জোটেনা। অন্যদিকে ইট ভাটায় সরকারী ভাবে বরাদ্দ কয়লা কালো বাজার থেকে উচ্চ মুল্যে কিনে প্রান্তিক কামাররা ব্যবহার করে। অন্য দিকে কয়লার বিকল্প হিসেবে ২৫ টাকা টিন কাঠ কয়লা কিনতে হয়। যা ব্যবহারে বেশী তাপ পাওয়া যায়না। ফলে তারা ব্যবসা সফল ভাবে করতে পারেনা।

দিনাজপুরে ১৩টি উপজেলায় গ্রামে গঞ্জে ছিটিয়ে আছে অসঙ্খ কামারের দোকান। সব দোকানই চলে নাজেহাল অবস্থায়। অনেক কামার এই ব্যাবসা বাদ দিয়ে রিক্সা, ভ্যান চালাচ্ছে। কেউবা কৃষি কাজে শ্রম দিয়ে দু-মুঠো ভাত জোগার করার চেষ্টা করছে। হাজার বছরের কামার শিল্প আজ সরকারী সহায়তা না পেয়ে করুন অবস্থার শিকার হয়েছে। তবে যুবক আশরাফুল তার মামার সঙ্গে কামারের কাজ করে প্রায় ৫বছর যাবৎ। এই কাজ করে মাসের শেষে ৭থেকে ৮হাজার টাকা বেতন পান। তাতে তার ছোট সংসার কোন মতে চলে যায়।

সংসারে আয় কম আর খরছ বেশী। তাই কামারদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। আর এই অভাব থেকে সংসারে অসান্তি নেমে আসে। প্রতি নিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে জীবন যাপন করতে হয় কামার পরিবারের মানুষদের। রিন পেলে অনেকটা স্বচ্ছল ভাবে কামার ব্যবসা চালাতে পারতো কিন্তু সরকার কামারদের খোজ খবর রাখেনা ও কামার শিল্পকে গুরুপ্ত দেয়না। অশান্ত জীবনকে একটু স্বস্তী দেওয়ার জন্য সবসময় চেষ্টা করে ভুতু কামার। তাই কাজের ফাকে ফাকে সব ভুলে গান গাইতে থাকে যেন গানের মধ্যে ভুতু সব সুখ খুজে পান। সরকার কামার শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে এই সেক্টরে দৃষ্টি দিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এটাই প্রত্যশা দিনাজপুরের কামার শিল্পদের।

[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য