Dhol-1মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুরঃ নীলফামারীর আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার ঐকিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ঢোল, খোল, তবলা, সানাই। আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের কারণে উৎসব-অনুষ্ঠানে এখন আর ঢোলের তেমন কদর না থাকলেও পূজা-পার্বন, যে কোনো বিজয় উৎসবসহ নানা নানা অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে ঢুলিদের। ঢোলের টাকডুম টাকবুম বোলের এখনো কোনো বিকল্প নেই। তাই যে কোন উৎসবে ডাক পড়লে ঢুলিরা বেজায় খুশি হন। সে কারণে ঢুলি থেকে ঢোল- খোলের কারিগরদের ব্যস্ততাও বাড়ে।

সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে বেশ কয়েকটি পরিবার বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজে জড়িত। এরা ঢাক, ঢোল, কংগো, দোতারা, তবলা, ডুগি, খোল, খঞ্জনি, হারমোনিয়াম ও একতারার মতো বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেন। একসময় এখানকার বাদ্যযন্ত্র বিশেষ করে এসব বাদ্যযন্ত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো।

ঢোল তৈরিতে গ্রামবাংলার কারিগরেরা কাঁচামাল হিসেবে আম, জাম, রেইট্রি, কড়াই ও মেহগনি কাঠ ব্যবহার করেন। আর ঢাকের ছাউনির জন্য ছাগল ও ভেড়ার চামড়া এবং বেড়ি দেওয়ার জন্য মহিষের চামড়া ব্যবহার করে থাকেন। এখন এসব কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলোর কদর না থাকায় কমে গেছে তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম। তাই খরচ পোষাতে কাঠের বদলে মাটি ও টিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে ঢোল।

শহরের দরমা পট্টির বাদ্যযন্ত্র তৈরির কারিগর নিতাই চন্দ্র্র দাস। তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্মগত পেশা। প্রায় ৪০ বছর আগে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করেছি। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি এ কাজের দায়িত্ব নিয়েছি। হারমোনিয়াম ৮ হাজার টাকায় ১৫ দিনে, ঢোল ১ হাজার ২শ’ টাকায় ৩ দিনে এবং তবলা ১ হাজার টাকায় ৩ দিনে তৈরি করে দেয়া হয়। উপকরণের দাম বাড়ায় আগের মতো আর লাভ হয়না। এছাড়া আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের কারণে স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব বাদ্যযন্ত্র চাহিদা একেবারে কমে গেছে। শুধু পুজা বা উৎসব এলে কদর বাড়ে। তিনি বলেন, তার তৈরি এসব বাদ্যযন্ত্র ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের বাজারে চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ করছেন নিতাই চন্দ্র দাস।

অপরদিকে উত্তরের বিহারী- বাঙালির মিশ্র শহর সৈয়দপুরে বিয়েশাদি, সুন্নতে খৎনা, চাকরী জীবন থেকে অবসর, সিনেমা হলে নতুন সিনেমার আগমন, পণ্যের প্রচার কাজে ব্যান্ড পার্টির ডাক পড়তো। সুসজ্জিত এই ব্যান্ড পার্টি অনুষ্ঠান মাতিয়ে তুলতেন। সময়ের আবর্তে ব্যান্ড পার্টির চাহিদাও কমেছে। এখন শুধু সিনেমা ও পন্যের প্রচারে এই ব্যান্ড পার্টির ডাক পড়ে। ফলে বর্তমানে এই শহরে মাত্র দুটি ব্যান্ড পার্টি অস্তিত্ব জানান দিয়ে পৈতৃক পেশাকে টিকিয়ে রেখেছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য