মশলা Masla-1মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মধ্যে বর্তমানে চোরাপথে আসা ভারতীয় জিরার ব্যবসা চলছে জমজমাটভাবে। জিরার পাশাপাশি চোরাপথে আসছে গোল মরিচ, লং, এলাচ, বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স, ওষুধ, ক্রীম, কাপড়সহ অনেক কিছু। আন্তঃ নগর তিতুমীর, রূপসা-সীমান্ত ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে আসছে ভারতীয় মসলা। চোরা কারবারীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এসব আন্তঃনগর ট্রেন। দীর্ঘদিন থেকে এগুলো চলে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোন অভিযান।

আন্ত:নগর এসব ট্রেন ষ্টেশন ছাড়াও দাঁড়াচ্ছে স্টেশনের বাইরে। আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে হিলি স্টেশনে পৌঁছার সাথে সাথে চোরাচালীতে ভরে যায় ট্রেনের কামড়া। শিশু, যুবক-যুবতী, মহিলা, হিজরা সকলেই সীমান্তের ওপার থেকে মসলা, চিনি, কাপড়সহ নানা রকমের মাদকদ্রব্য নিয়ে আসে। চোরাচালানীদের দাপট এতটাই বেশী যে যাত্রীরা প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।

অনুন্ধানে দেখা গেছে, পুরো ট্রেন যেন চোরাকারবারীদের ড্রেসিং রুম। মহিলা-পুরুষ সকলেই তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে রাবার কিংবা রশি দিয়ে আটকাচ্ছে এসব পন্য। দেখে মনে হয় মহিলারা প্রতিদিনই গর্ভবতী হচ্ছেন। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তারা তেড়ে আসে। ট্রেনের কামরায় কর্মরত এ্যাটেনডেন্ট, পুলিশ, টিটি ও চোরাকারবারীরা সবাই যেন মিলেমিশে একাকার। দেখে মনে হবে একই পরিবারের সদস্য। শুধুই চলছে লেদদেন। আছে আবার ডাবল বেনিফিট। একবার সীমান্ত পার হবার সময় এবং পরবর্তীতে ট্রেনের কামরায় তাদের বখরা দিতে হয়। সবচেয়ে আশ্চর্য্য হবার বিষয়, দু’একজন ছাড়া কেউই নেমপেট লাগায়না। অথচ ডিউটিরত অবস্থায় নেমপেট লাগানো বাধ্যতামূলক। আইন-শৃংঙ্গলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা আই ওয়াশ ছাড়া কিছুই না। যাত্রীদের অনেকেই পুলিশের কাছে প্রতিকার চেয়ে উল্টো ধমক খেতে হয়।

ট্রেনে কথা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে। তারা বলেন, সরকারের উচিত চোরাকারবারীরের জন্য একটি বিশেষ ট্রেন দেয়া। কয়েকজন চোরাচালানী জানান, সীমান্তের ওপার থেকে মাল এনে মহাজনের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত- বিজিবি, পুলিশ, টিটি ও ষ্টেশন মাস্টারের দালালদের টাকা দিতে হয়। তাদের টাকা না দিলে মাল ধরে নিয়ে যায়। উলে¬খ্য, যে, ইতোপূর্বে চোরাকারবারীদের হামলায় ছাত্র আহত হলে সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে ছাত্ররা কয়েক ঘন্টা ট্রেন অবরোধ করে রেখেছিল।

চোরাকারবারীরা বর্তমানে ভারতীয় এসব জিরা সৈয়দপুরের ব্যবসায়ী মহাজন আনোয়ার, নুরু, নাদিম, নওশাদ, কাঞ্চনসহ অনেকের মোকামে নিয়ে আসছেন। এরা বিভিন্ন মহলের সাথে সম্পর্ক ভাল রেখে তাদের অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। ফলে চোরাপথে কারবারীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই এদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর দাবী তুলছে সচেতন মহল। ভারতীয় এ সকল ব্যবসার কারণে দেশীয় পণ্য বাজারে মার খাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় পণ্য।

সৈয়দপুর জিআরপি থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে ট্রেনে চোরাচালান কমে এসেছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেন ও স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য