প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করার কারণে দীর্ঘ ১৮ দিন লেখাপড়া বন্ধ ছিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অবশেষে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ায় দেরীতে শুরু হয়েছে ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ভোটের দিন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা ওই কেন্দ্রে হামলা চালায় এবং বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ভাংচুর করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আবু হানিফ নামে বিএনপির এক কর্মী সহ ২জন নিহত হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভোট বিরোধীরা বিদ্যালয়ের পাশের দেওনিয়া বাজারে হিন্দুদের দোকানপাট ভাংচুর করে ও অগ্নিসংযোগ করে। শুধু তাই নয়, সংখ্যালঘু পরিবারের তরুণীদের তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার হুমকি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ওই গ্রামের সংখ্যালঘুরা ওইদিন সন্ধ্যায় ঘরবাড়ি ছেড়ে ইসকন মন্দিরে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে ৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদ ওই এলাকা পরিদর্শন করে সংখ্যালঘু লোকজনের নিরাপত্তার জন্য সেনা ও পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয় সেনাবাহিনী ও পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প। ১০ জানুয়ারি রাতে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হলেও পুলিশের ক্যাম্পটি থেকেই যায়। অস্ত্র ও গোলাবারুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি কক্ষেই চলে পুলিশি কার্যক্রম।একজন কর্মকর্তা ও ২০ জন পুলিশ সদস্যের থাকা খাওয়া সবই চলে ওই বিদ্যালয়ে।তাই দীর্ঘ প্রায় ১৮ দিন ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে।এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়েও লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিক্তা রানী রায় জানান, বিদ্যালয়ের সবকটি কক্ষে পুলিশ ক্যাম্প চালু থাকায় জায়গার অভাবে পাঠদান বন্ধ ছিল। এতে শিশুদের লেখাপড়ার খানিকটা ক্ষতি হয়।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সরকার জানান, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হলেও শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত ছিল।পরবর্তীতে পুলিশের ডিইজি সহ আলাপ করে ওই বিদ্যালয় থেকে পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হলে পাঠদান পুনরায় শুরু করা হয়। তিনি আরো জানান,শিশুদের লেখাপড়ার যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী ছুটির দিনগুলোতে পুষিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য