Dhanদিনাজপুর প্রতিনিধিঃ খাদ্য শষ্যের ভান্ডার হিসাবে খ্যাত দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার মধ্যে চিরিরবন্দর অন্যতম। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চলতি মৌসুমে রোপা আমনের সোনালী স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে কৃষকের মনে। বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৫১৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ৮১৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড ৫ হাজার ৬৫ ও উফশী ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়াও উচুঁ জমিতে আগাম বিভিন্ন প্রজাতির ধানের চাষ করা হয়েছে।

আগাম জাতের ধান উৎপাদনকারী নশরতপুর এলাকার হিষি চন্দ্র, আফতাব উদ্দিন, সেরাজুল ইসলাম, বাসুদেপুর গ্রামের আব্দুল জলিল, আব্দুস সবুর, ইন্দ্র পাড়ার আইয়ুব আলী, হাসিমপুরের সোলায়মান আলী, ফতেজংপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম, আকতার আলী এবং গছাহার গ্রামের পঙ্কজ দাস, সাদেক আলীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাইব্রীড জাতের ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আগাম জাতের ধান কাটা কিছ’ কিছিু শুরু হলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা পুরুদমে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে হাইব্রীড প্রতি হেক্টরে ফলন প্রায় সাড়ে ৩ টন এবং উপশী জাতের ফলন প্রায় ৩ টন উৎপাদন হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
Dhan
উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, ধানক্ষেতের শত্রু মাজরা পোকা। আর এসব পোকা দমনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউড আফ্রিকান জাতের ধৈঞ্চার বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে এবং রোপা আমন লাগানোর সময় জমিতে এসব ধৈঞ্চার চারা প্রতি হেক্টরে ৫০-৫৫টি করে লাগানো হয়। কৃষি বিভাগের উদ্যোগ আর চাষিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কোন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই ফসল বাঁচাতে প্রায় শতভাগ পার্চিং (লাইফ ও ডেথ) পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন বিষক্রিয়া থেকে পরিবেশ রক্ষা হয়েছে অন্যদিকে কীটনাশক প্রয়োগের খরচ কম হয়েছে। ফলে রোগমুক্ত থাকার কারণে বাম্পার ফলন ও বিষমুক্ত ধান পাওয়া আশা করা হচ্ছে।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে রোপনকৃত রোপা আমনের ধান গাছ শীষে ভরপুর হয়ে হেলে পরেছে। সোনালী স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে কৃষকের মনে। ধান কাটা পর্যন্ত কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তা হলে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য