Bash-01মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় অব্যাহতভাবে বাঁশ কাটা, যত্ন ও অবহেলার কারণে ব্যবহারিক জীবনে অতি প্রয়োজনীয় বাঁশঝাড় হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় উত্তরের এই জেলার সৈয়দপুরে সর্বত্র প্রায় বাঁশের ব্যাপক চাষ করা হতো। সামান্য যতœ আর বিনা খরচে গড়ে ওঠে বাঁশের বাগান। কিন্ত আজ অযতœ আর অবহেলায় সেই বাঁশ বাগান বিলীন হতে চলেছে।

এ এলাকার মানুষ একসময় প্রসূতির কাজে সন্তানের নাড়ি কাটার জন্য বাঁশের চিকন চাঁচ ব্যবহার করতো, আবার মৃত ব্যক্তিকে দাফনের জন্য কবরে বাঁশ বিছিয়ে দিয়ে তারপর মাটি দিত এবং বর্তমানেও দিচ্ছে। তাই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজন অতুলনীয়। আগে গেরোস্ত’দের বাঁশ বাগান ছিল অহংকারের। কোন বংশের কত বিঘা বাঁশ আছে, তা দিয়েই নির্ণয় হতো সে বংশের প্রভাব। কিন্ত কালের বিবর্তনে সেই প্রতিপত্তির মানদন্ড বাঁশ বাগান বা বাঁশঝাড় আর দেখা যায় না। খুজে পাওয়া সেই শীতল পরিবেশ ঘেরা সবুজের সমারোহ।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বনজ সম্পদ বাঁশ বাগান। মাত্র কয়েক বছর আগে এ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো। কুটির শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে এবং কাগজ তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হতো বাঁশ। বাঁশ দিয়ে নদী বা খাল পাড়াপাড়ের তৈরি করা হতো বাঁশের সাঁকো। বাংলার আবহমান সঙ্গীতের প্রধান মাধ্যম বাঁশিও তৈরি হতো এই একমাত্র বাঁশ দিয়ে। গ্রামবাংলার আরেক ঐতিহ্য লাঠি খেলতে ব্যবহার হতো বাঁশ। এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে অপরিপক্ক বাঁশের গোড়া তুলে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে অনেকে। অনেক বাঁশঝাড় মালিক দালানকোঠা তৈরি করায় রান্নাবান্নার কাজে বাঁশ পুড়ছে।

পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগররা পেশায় টিকে থাকতে পারছে না। শিল্পীর নিপুণ হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র গৃহশোভাবর্ধনে অতুলনীয়। এখানে এক সময় ওই বিশেষ ধরণের বাঁশ পাওয়া গেলেও সে বাঁশের উৎপাদন নেই বললেই চলে। এ কারণে অনেক শিল্পী বেকার জীবন-যাপন করছেন। বাঁশের অভাবে কুটির শিল্পের সাথে জড়িতরা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন জীবন নির্বাহের তাগিদে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য