গরু জবাইকারীকে হত্যার নির্দেশ রয়েছে বেদশাস্ত্রেগরু জবাইকারী পাপীদের জীবন নিতে হবে বলে আরএস মুখপত্র ‘পঞ্চজন্য’তে এক নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। বেদের বরাত দিয়ে আরএস নতুন এ তত্ত্ব খাড়া করেছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গরুর গোশত খাওয়া এবং তা বাসায় রাখার মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে মুহাম্মদ আখলাক নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা নিয়ে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ-আন্দোলনের মধ্যে তারা এ  নতুন তত্ত্ব তুলে ধরল।  আর ওই তত্ত্ব অনুসারে মুহাম্মদ আখলাক হত্যাকে সমর্থন করা হয়েছে।

ওই নিবন্ধে মাদ্রাসা এবং মুসলিম নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে মাদ্রাসা এবং মুসলিম নেতারা যুব মুসলিমদের দেশের ঐতিহ্যকে ঘৃণা করতে শেখাচ্ছে। বিনয়কৃষ্ণ চতুর্বেদী নামে ওই লেখক দাবি করেছেন, সম্ভবত এ ধরণের খারাপ উপদেশের প্রভাবিত হয়ে আখলাক গরু জবাই করেছে।

তিনি বলেছেন, গরু জবাই আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা। আমাদের পূর্বপুরুষরা এটা প্রতিহত করার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন। ইতিহাসে এরকম শতশত ঘটনা আছে যখন মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা হিন্দুদের ধর্মান্তর করার জন্য জোর করে তাদের মুখের মধ্যে গরুর গোশত ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছে।

একটি ইংরেজি দৈনিকের সঙ্গে কথা বলার সময় নিবন্ধকার বিনয়কৃষ্ণ চতুর্বেদী বলেন,‘যজুর্বেদে লেখা আছে যে গরু হত্যা করবে তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিতে হবে।’  যেসব লেখক আখলাক হত্যার প্রতিবাদে সাহিত্য সম্মান ফিরিয়ে দিচ্ছেন, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে চতুর্বেদী বলেছেন,‘আপনারা আখলাকের দ্বারা গরু জবাই খেয়াল করেননি।’ তার দাবি, এই গরু জবাই সম্পর্কিত পাপের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল।

নিউটনের সূত্র আউড়ে নিবন্ধকারের দাবি,যদি আপনারা ৮০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিকে সম্মান না করেন তাহলে এ ধরণের প্রতিক্রিয়া কিভাবে প্রতিরোধ করা যাবে?

এদিকে, বিতর্কিত ওই নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর কার্যত চাপে পড়ে আরএসএস –এর মুখপত্র ‘পাঞ্চজন্য’র সম্পাদক হিতেশ শঙ্কর সাফাই দিয়ে বলেছেন,‘ওই লেখক কেবলমাত্র নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নন। তাই এই লেখার সঙ্গে তাদের পত্রিকার কোনো সম্পর্ক নেই। হিন্দুত্ববাদী আরএসএস-এর মুখপত্রে এ ধরণের লেখা প্রকাশিথ হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। -রেডিও তেহরান
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য