PHOTO-01আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ ধর্ষিতা কর্তৃক আদালতে মামলা করায় ধর্ষক ও তার সহযোগি সন্ত্রাসীদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ মামলার আসামি সাদা মিয়াসহ অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। এদিকে ধর্ষিতার বিরুদ্ধেও মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়েরের অভিযোগ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম এক লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন সে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নিজাল গ্রামের দরিদ্র কৃষক আশরাফ আলীর মেয়ে এবং ঢাকার গার্মেন্টসে কর্মরত ছিল। পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের বদলাপাড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের মেয়ে ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারি মোর্শেদা বেগমের সাথে খাদিজার মোবাইল ফোনে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। এই সখ্যতার সুত্র ধরেই তার ছোট ভাই সাদা মিয়ার সাথে খাদিজা বেগমের মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর সাদা মিয়া খাদিজা বেগমকে একপর্যায়ে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। সেই সুত্রে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোর্শেদা বেগমের যোগসাজসে খাদিজা বেগমকে তার ভাই সাদা মিয়া বিয়ের কথা বলে মোটরসাইকেলযোগে খাদিজা বেগমকে বাড়ি থেকে সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট সংলগ্ন বেরিবাঁধের কাছে (প্রফেসর চাঁন মিয়ার পুকুর পাড়ে) সুকৌশলে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর তার ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে সহযোগি বন্ধুদেরসহ পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার চিৎকারে পথচারি তারা মিয়া ও মাফু মিয়া এগিয়ে এসে তাকে প্রথমে পলাশবাড়ি হাসপাতালে পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সুস্থ হয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর খাদিজা বেগম বাদি হয়ে গাইবান্ধা জজ কোর্টে সাদা মিয়া, আমিনুল ইসলাম, মোর্শেদা বেগম ও অজ্ঞাত একজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে।
এদিকে গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পথচারি তারা মিয়া, তানভির, লিটু মিয়া ও বাবলার নাম উল্লে¬খ করে মিঠাপুকুর থানায় মিথ্যা অপহরণ মামলা করে। সংবাদ সম্মেলনে লিটু মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এব্যাপারে আশরাফুল আলম হত্যা মামলার সাক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১৮ জানুয়ারি তার ভাগ্নে আশরাফুল আলমকে অপহরণ করে হত্যা করার পর তার লাশ গুম করে। সেই হত্যা মামলার বাদি ও দুইজন সাক্ষীর নামে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানী করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত খাদিজা বেগমকে অপহরণ করার অভিযোগে লিটু মিয়া ওরফে আহসান হাবিব লিটু মিয়াকে আসামি করে খাদিজার মা দেলজাহান বেগম বাদি হয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর থানায় একটি অপহরণ মামলা (নং ২৪, তাং ১৪/১০/১৫, ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০) দায়ের করেছে। ছবি সংযুক্ত
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য