Phulbari Duiso Bachorer Jamidar Bari-15.10.2015দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী দুইশ বছরের পুরনো জমিদার ইন্দ্রচাঁদ বোথরার কাচারী বাড়ীটি অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে অযত্নে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ।

অতীত ঐতিহ্যের নীরব স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জমিদার ইন্দ্রচাঁদ বোথরার এই কাচারী বাড়ীটি দীর্ঘদিন উপজেলা ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার হলেও কর্তৃপক্ষ এ বাড়ীটি সংস্কার না করে পাশে একটি উপজেলা ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ করে সেখানে উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ফলে এই কাচারী বাড়ীটি এখন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছে। যার ফলে দিনের পর দিন অযতœ অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও অতীত ঐতিহ্যের নীরব স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই কাচারী বাড়ীটি।

কাচারি বাড়িটিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ১৮৮৬ইং সালে নির্মিত এই ভবনটির পাথরে খোদাই করা দুইটি বাঘ ও নির্মাণ সাল এবং বাড়ির মালিকের নাম লেখা রয়েছে। বাড়ীটিকে দুইটি বড় বাঘের ছবি থাকায় এই বাড়ীটি বাঘ মার্কা বাড়ী বলে অত্র এলাকায় পরিচিতি ছিল। বাড়ীটি ৭ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন, যা প্রস্থে ৩০ ফুট ও দৈর্ঘ্যে ২০০ ফুট লম্বা। প্রতিটি দেয়াল ৩০ ইঞ্চি চওড়া চুন শুড়কি দ্বারা নির্মিত। এই ভবনটি সংস্কার করার হলে এটি অতীত ঐতিহ্যের নিদর্শন হয়ে নতুন প্রজন্মের নিকট ইতিহাসের শিক্ষনীয় বিষয় হওয়ার পাশাপাশি এখানে ডাকবাংলাসহ পরিদর্শন কেন্দ্র হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলার প্রবীন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের নিকট জানা গেছে, প্রজা সাধারণের যাতাযাতের সুবিধার্তে ছোট যমুনা নদীর পাড়ে এই কাচারী বাড়ীটি তৈরী করা হয়। নান্দনিক নির্মাণ শৈলীর কারুকার্য্য দ্বারা এই কাচারি বাড়ীটি জমিদার ইন্দ্রচাঁদ বোথরার একটি শখের বাড়ী ছিল। দেশ বিভাগের পর জমিদার প্রথা বিলুপ্তির হলে এই কাচারী বাড়ীটি উপজেলা ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিলো। জমিদার প্রথা বিলপ্তির পর হতে গত ২০১০ইং সাল পর্যন্ত এই ভবনটি ছিল উপজেলা ভূমি অফিস।

কিন্তু  দীর্ঘদিন সংস্কার না করার ফলে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। ভবনটির ছাদ দিয়ে পানি যেমন পানি পড়ে তেমনি দেওয়ালের প্লাষ্টার খসে পড়ে। কতৃপক্ষ এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি সংস্কার না করে তার পিছনে একটি নতুন ভবন নিমার্ণ করে সেখানে উপজেলা ভূমি অফিসটি স্থানান্তর করায় এই ভবনটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

ফুলবাড়ীসহ অত্র এলাকায় ঐতিহ্যের ধারক ও লালনকারী এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি জনসাধারণ অচিরেই সংস্কার করে ইতিহাসের স্বাক্ষী হিসেবে ভবনটি রক্ষা করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য