প্রধানমন্ত্রীসকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম জেলা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্য বিলুপ্ত সীটমহল দাসিয়ার ছড়ায় এক মতবিনময় সভায় সীটবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,  আগেই আপনারা ঠিকানা পেতেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নেয়ার পর সেটা আর বাস্তবায়ন হয়নি।  আল্লাহ আমাকে শক্তি দিয়েছেন দেশ পরিচালনা করার, জনগণের সেবা করার। আমি ভারতের পার্লামেন্টের সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। ভারতের ইতিহাসে কোন একটা ইস্যুতে সকলের ঐক্যমতে ভোট দেয়ার ইতিহাস রয়েছে। মুদী সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই। অন্যান্য দেশ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা রাজ্য,  মেঘালয়, আসামসহ মনিপুরি রাজ্যকে আমি ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ একটা স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশের একটা ভূ-খন্ড সিমানা চিহিৃত, সেটা আমারা সফল ভাবে করতে পেরেছি। দীর্ঘদিন পর আমরা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়ন করে আজকে আপনারা মূল ভূখন্ডে।

আপনারা ভূলেও কখনো সিটবাসী কিংবা সিটি চিন্তাই করবেন না। আপনারা আমাদের দেশের জনগণ, দেশের নাগরিক। সেভাবেই নিজেকে বিবেচনা করবেন। আপনারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন। আর আপনারা বঞ্চিত থাকবেন না। ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য ৫টি  পুলিশ ফাঁড়ি কিংবা তদন্ত কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলায় একটি, পঞ্চগড় জেলায় ২টি, লালমনিহাটে ২টি এবং কোথাও যেন কোন আপদ বিপদ না ঘটায় সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি। যেন অন্ধকারে না থাকে আলোকিত হন তার  জন্যে ইতিমধ্যে আমরা  বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রায় ৭শত পরিবারকে বিদ্যতের আওতায় আনা হয়েছে। সেই সাথে লালমনিরহাট জেলার বাঁশ-পঁচা এবং বাঁশকাঁটার প্রায় ৫০জন গ্রাহক এবং নীলফামারী জেলার ১১৯জন পরিবার, পঞ্চগড় জেলা বোদা দেবীগঞ্জ উপজেলার ৪১ দশমিক ৭১ কিলোমিটার বিদ্যুত লাইন নির্মান। সর্বমোট প্রায় আড়াই হাজার পরিবারকে আমরা পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া শুরু করেছি। তাছাড়া যেসব এলাকায় বিদ্যুত লাইন নাই আমরা সেসব এলাকায় সোলার প্যানেল দিয়েছি। এছাড়া শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য ইতিমধ্যে আমরা কুড়িগ্রাম জেলার দাসিয়ারছড়া, কামারপুর, কালির হাট, বালাটারীসহ  ৩টি স্থানে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেঠি। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার অধুনাভূক্ত সিটমহলে পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের ক্যাসমেন্ট এরিয়ার ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

কুড়িগ্রাম জেলায় একটা হাইস্কুল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া মসজিদ ও মন্দির ভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন আপনাদের দোড় গড়ায় পৌচ্ছায় সে জন্য আমরা সারা দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থা করেছি। পঞ্চগড় ৩টি,, নীলফামারী ১টি ও  কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি কিমিউনিটি ক্লিনিক অস্থায়ীভাবে স্থাপন করেছি। দাসিয়ারছড়ায় ৩হাজার জন নারী-পুরুষকে ফ্রি চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ইতিমধ্যে কায্যক্রম শুরু হয়েছে। কাঁচা রাস্তাগুলি পাকা করা,  যেখানে রাস্তা নেই সেখানে কাঁচা রাস্তা তৈরি করা। বিশেষ করে ভারতে যারা যেতে চান তাদের জন্য চেক পয়েন্টে রাস্তা সংষ্কারের কাজও চলছে। আমি পুরো ঊনিশ কিলোমিটার রাস্তা গাড়ীতে আসি। যাতে করে দ্রুত রাস্তাঘাট গুলো মেরামত হবে, উন্নয়ন হবে। মঙ্গার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের জন্য খাদ্য দিয়ে দিচ্ছি। ১হাজার ৬শত ৩০টি পরিবারকে ১৯ মেট্রিকটন জিআর চাল দিয়েছি। ১শত ৭৫টি পরিবারকে ৩৫হাজার টাকা ও শুকনা খাবার বিতর করা হয়েছে।১ হাজার ১শত ৬৬টি পরিবার তাদের মাঝে প্রায় ৬৬মেট্রিকটন চাল এবং পঞ্চগড়ে ৩হাজার ৮শত ২৩টি পরিবার ও নীলফামারী জেলার ১শত ১৯টি পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে খাদ্য বিতরন করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার ৬৪জন দাসিয়ারছড়া  আনসার ও ভিডিপির প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় তার জন্য ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, সমবায় অধিদপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্রয়ন প্রকল্প এবং যাতের ভিটামাটি আছে, ঘরবাড়ী করতে পারছেন না। তাদের ঘরবাড়ী আমরা করে দিব। আমাদের একটা গৃহায়ন তহবিল আছে। সেই তহবিল থেকে আমরা এ কার্যক্রম চালিয়ে যাব। যারা ভূমিহীন নিঃস্ব তাদের জন্য আমরা আশ্রয়ন বা গুচ্ছগ্রাম করে দিব। সারা বাংলাদেশে আমরা ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করে দিয়েছি। দাসিয়ারছড়ায়ও ডিজিটাল সেন্টার করা হবে। সেখান থেকে ছেলে মেয়ে ইন্টারনেন্ট সুবিধা ও উপার্জন করতে পারবে। তাছাড়া পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ও সমবায় অধিদপ্তর, বিদ্যুত জ্বালানি, খনিজ মন্ত্রনালয়, দূযোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়, গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়, কৃষি মন্ত্রনালয়, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়, সরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়,  মহিলা ও শিশু মন্ত্রনালয়, যুব ক্রিয়া মন্ত্রনালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়।

এসব মন্ত্রনায় পৃথক পৃথক ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।  বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক উন্নত জীবন পাবে। দু-বেলা পেট ভরে ভাত খাবে, ছেলেমেয়েরা  লেখাপড়া করবে। শিক্ষার ব্যাপারে তিনি বলেন, ৬ষ্ঠ থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। একটি ছেলে-মেয়েও যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। দীর্ঘদিনের এ সমস্য আমরা সমাধান করেছি। শুধু এটাই নয়  আমাদের বিশাল সমুদ্র সীমা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ বিশ্বে সবার সাথে যাতে চলতে পারে সে মর্যাদা আমি রক্ষা করে চলছি। অর্থনীতির ব্যাপারে বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতিকভাবে স্বাবলম্বী। কুড়িগ্রাম এক সময় নাম ছিল মঙ্গার দেশ। মানুষ ঠাট্টা করে বলতো। কুড়িয়া গ্রাম। প্রতিটি উপজেলা আমি ঘুরেছি। মানুষের দুঃখ-দুদর্শা দেখেছি। কতবার দুর্ভিক্ষ হয়েছে। দূর্ভিক্ষ প্রীরিত এলাকায় আমি গিয়েছি। রাস্তা-ঘাট ছিল না, পুল-ব্রীজ ছিল না। নৌকায় করে পায়ে হেটে ভ্যানে চড়ে বিভিন্নভাবে সে সব জায়গায় গিয়েছি।

৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর বিশেষ করে ৯৬-২০০১ ইং পর্যন্ত এই এলাকায় কোন মঙ্গা হতে দেই নাই। ৮৮ বন্যার পর থেকে খাদ্যে আমরা সয়ং সম্পূূন্নতা অর্জন করি। এরপর ২০০৯ সালে আবার আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন মঙ্গা হতে দেই নাই। এজন্য কুড়িগ্রামে আমরা ১৫ ভাগ অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন করেছি।  যে সময় এ এলাকায় কাজ থাকে না  সে জন্য আমরা নতুন নতুন গবেষণা করে ধান চাষ করে উৎপাদন করছি। খাদ্য পুষ্টিটাও যেন নিশ্চিত হয় সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি। বাংলাদেশ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত । এই দেশ উন্নত হবে, সমৃদ্ধ হবে।  সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এতো মানুষের রক্ত কখনো ব্যথা যায় না। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সারাটা জিবন তিনি কষ্ট করে গেছেন। জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছেন, তার তো একটাই স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটানো। বাংলাদেশ ক্ষুদা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ হয়ে গড়ে উঠবে । আমরাও তার আদর্শ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এসময় তার সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন সাবেক পরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপুমনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম চেীধুরীসহ দলীয় নেতাকর্মী। পরে কুড়িগ্রামের জনসভায় ভাষন দেয়ার  উদ্দেশ্যে তিনি রওনা দেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য