ধূর্গা পুজাচিরিরবন্দর সংবাদাতাঃ হিন্দু ধর্মাবল্বমীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। এ দূর্গোৎসব শুরু হবে আগামী ১৯ অক্টোবর বোধনের মধ্য দিয়ে। বাকি আর মাত্র ক’দিন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চিরিরবন্দর উপজেলার পূজামন্ডপগুলোতে সাড়ম্বরে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে সার্বজনীন ১৩৮টি পূজামন্ডপ রয়েছে। প্রতিমা শিল্পীরা দিন-রাত ব্যস্ত প্রতিমা নির্মাণে। রাত-দিন পরিশ্রম করে শিল্পীরা তৈরি করছেন দূর্গা, লক্ষী, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, মহিষ, অসুর, সিংহের মৃন্ময় মূর্তি। প্রতিমা সৌন্দর্য আর চাকচিক্য নিয়ে বিভিন্ন মন্ডপে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। পুরাণ মতে-রাজা সুরথ প্রথম দেবী দূর্গার আরাধনা শুরু করেন।

বসন্তে তিনি এ পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রাম চন্দ্র দূর্গা পূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এ পূজাকে হিন্দু মতে অকালবোধনও বলা হয়। তাই এই অকালবোধনে শারদীয় দূর্গোৎসবকে ঘিরে নানা আয়োজনে ব্যস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সব ধর্ম ও শ্রেণির বাঙালীদের মধ্যেও। পূজার আনন্দে মাতোয়ারা বাঙালী জাতি। মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা  সাজসজ্জার কাজ।

দেবী প্রতিমা নির্মাণ শেষ, গায়ে এখন রং ছোঁয়ানোর অপেক্ষায় ভাস্কর নিপূণ শিল্পীরা। আয়োজকরা ছুটছেন দর্জি পাড়ায়। মা দূর্গার লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ির জরির কাজ, গণেশের ধূতিতে নকশাদার পাড় বসানো আর মহিষাসুরের জমকালো পোশাক তৈরির কাজ এখনও যে বাকি। কেউবা ছুটছেন কামারপাড়ায়। ঘন্টার পর ঘন্টা ঠায় দাঁড়িয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন দেবীর হাতের চক্র, গদা, তীর-ধনুক ও খড়গ-ত্রিশূল। চলছে সংস্কারের শেষ কাজটুকুও। এদিকে প্রতিমা শিল্পীদেরও যেন দম ফেলার সময় নেই। প্রতিমা শিল্পীরা জানান, প্রতিমা গড়া শেষ হলে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে নাক-চোখ-মুখ। রয়েছেন আয়োজকরাও ব্যস্ত। সবকিছু মিলে দূর্গোৎসবের সঙ্গে জড়িত কারো দম ফেলার সুযোগ নেই।

এদিকে বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও মহল্লার আয়োজকরা বলেন, মন্ডপের সাজ সজ্জায়ও থাকছে নানা চমক। পাশাপাশি সম্পন্ন হবে আলোকসজ্জা ও পূজার অন্যান্য আয়োজন। উপজেলার রাণীরবন্দর, ভূষিরবন্দর, আলোকডিহির গছাহার মাষ্টারপাড়া, বিন্যাকুড়ি, দূর্গাডাঙ্গা, বলাইবাজার, সাঁইতাড়া, লালদিঘী, অকড়াবাড়ি, কুতুবডাঙ্গা, দল্লা, পুনট্টিসহ বেশ কিছু মন্দির ঘুুরে দেখা গেছে কোন কোন মন্ডপে প্রতিমায় রংয়ের কাজ চলছে। পূজামন্ডপগুলোর সাজসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে। পূজাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই উপজেলার সর্বত্র ভিন্ন আমেজ বইতে শুরু করেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘেœ পূজা উৎযাপনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য