01-আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাজধানী আঙ্কারায় শান্তি সমাবেশে প্রাণঘাতী বোমা হামলার একদিন পর কুর্দি বিদ্রোহীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে তুর্কি বিমান বাহিনী।

বিবিসি জানিয়েছে, রোববারের এ বিমান হামলায় তুরস্কের দক্ষিণপূর্বে ও সীমান্তের অপরপাশে উত্তর ইরাকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এর আগে শনিবার আঙ্কারার কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের সামনে আয়োজিত এক শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ৯৫ জন নিহত হন। কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পিকেকে-র সঙ্গে সরকারি বাহিনীগুলোর চলমান সহিংসতার অবসান চেয়ে শান্তি সমাবেশটির ডাক দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় রোববার থেকে দেশব্যাপী তিনদিনের শোক পালন শুরু হলেও শান্তিবাদিদের সহিংসতা অবসানের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পিকেকের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করেছে দেশটির সরকার।

শান্তি সমাবেশে হামলার পেছনে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠী দায়ি বলে সন্দেহ করছে তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তুর্কি কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, সমাবেশটিতে দুজন আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে।

দেশটির দুজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সব লক্ষণে আইএস হামলাটি চালিয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

শনিবার পিকেকে একতরফাভাবে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু পিকেকের ঘোষণা সরকার প্রত্যাখ্যান করার পরপরই তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে দেশটির বিমান বাহিনী।

১ নভেম্বর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত হয়ে আছে, এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বোমা হামলা ও পিকেকে-সরকারি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় তুরস্কে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জুনের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, বিপরীতে কুর্দিপন্থি পিপলস ডেমোক্রেটিকে পার্টি (এইচডিপি) অপ্রত্যাশীত ভালো ফল করে। এইচডিপি শনিবারের শান্তি সমাবেশের অন্যতম উদ্যোক্ত ছিল।

এইচডিপির দাবি অনুযায়ী, শান্তি সমাবেশে চালানো বোমা হামলায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ১২৮।

তুর্কি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার বিমান হামলায় উত্তর ইরাকের মেটিনা ও জাপ এলাকায় পিকেকের অবস্থানগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার তুরস্কের দিয়ারবাকির প্রদেশে পিকেকের অবস্থানগুলোতে বোমার্বষণ করে তুর্কি জঙ্গিবিমানগুলো। এতে ৪৯ জন নিহত হওয়ার কথা প্রকাশিত হলেও সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পিকেকের অস্ত্রবিরতির কোনো ‘তাৎপর্য’ তাদের কাছে নেই বলে জানিয়ে এক জ্যেষ্ঠ তুর্কি নিরাপত্তা কর্মকর্তা কোনো বিরতি ছাড়াই হামলা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য