ঠাকুরগাঁওয়ে অগ্নিদগ্ধ সেই গৃহবধূর মৃত্যুপ্রায় ২ মাস যমে-মানুষে টানাটানির পর অবশেষে অগ্নিদগ্ধ সেই গৃহবধূ শারমিন আকতারের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রানান্তকর চেষ্টার পরও মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে বালিকাবধূ শারমিন(১৪)। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঠাকুরগাঁও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোর্শেদ আলী খান  মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়,ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সুখানপুকুরী  ইউপির কার্তিকতলা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন আড়াই বছর পূর্বে পার্শ¦বর্তী পন্চসড় জেলার দেবীগন্জ উপজেলার দন্ডপাল গ্রামের দিনমজুর সাহেবুল ইসলামের নাবালিকা কন্যা শারমিন আকতারকে  বিয়ে করে। আড়াই বছরের মাথায় শারমিন এক কন্যা সন্তানের মা হয়।স্ত্রীর সন্তান হওয়ায় স্বামী আলমগীর  আবারো বিয়ে করার জন্য স্ত্রীর কাছে লিখিত অনুমতি চায় ।সে অনুমতি দিতে রাজি না হওয়ায় গত ১৪ আগষ্ট  রাতে পাষন্ড স্বামী আলমগীর হোসেন কেরোসিন তেল ঢেলে দিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।কিন্তু স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি না করে স্থানীয় কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করায়।মেয়ের পিতা সাহেবুল বিচারের জন্য জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নিকট আবেদন করলে তিনি রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখতে পেয়ে  ওই গৃহবধূকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়।হাসপাতালে রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২৭ আগষ্ট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোর্শেদ আলীর উদ্যোগে  শারমিনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা কালে গত মঙ্গলবার ভোর ৩.৪৫ টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন গৃহবধূ শারমিন আকতার।

এ ঘটনায় পন্চগড়ের দেবীগন্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে মেয়ের পিতা সাহেবুল ইসলাম।ইতোমধ্যে পুলিশ ২ জন আসামী গ্রেফতারও করে। ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চিকিৎসাকালে  শারমিন সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী আলমগীর হোসেনের নেশা হলো কিছুদিন পরপর  স্ত্রী পাল্টানো ।এরপূর্বে আলমগীর আরো ৩টি বিয়ে করে । ৪র্থ স্ত্রী শারমিন আকতার। এক সন্তানের জননী শারমিন আকতার ঘটনার ২ মাস পূর্বে একটি কন্যা সন্তানের মা হলে আলমগীর আরো বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে এবং শারমিনের কাছে বিয়ের অনুমতি চায়। সে ৫ম বিয়েতে অনুমতি না দেওয়ায় পাষন্ড স্বামী আলমগীর স্ত্রী শারমিনের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।এতে তার ২ স্তন সহ শরীরের ৯০ ভাগ জায়গা পুড়ে যায়।অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সে তার সন্তানকেও বুকের দুধ খাওয়াতে পারেনি।আর ঘঁনার এক মাস ২১ দিন পর বালিকাবধূ শারমিন মারা যায়।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য