04-TPPবিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাজার গড়ার লক্ষ্যে ১২টি দেশ ‘ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি)’ বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা চুক্তি সাক্ষর করেছে। এ ঘটনাকে বিশ্লেষকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এক বিশাল নীতিগত জয় বলে মন্তব্য করেছেন।

গত সোমবার জর্জিয়ার আটলান্টায় স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীরা এতে সাক্ষর করেন বলে জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে। মার্কিন নেতৃত্বে পাঁচ বছর ধরে চলে আসছিলো এ আলোচনা।

চুক্তি সাক্ষর করা দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রুনেই, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। এসব দেশে এখন থেকে সহযোগীদের পণ্য সাশ্রয়ী শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদেরও লগ্নি অধিক নিরাপদ হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল মুক্তবাজার সৃষ্টির ফলে প্রথমেই চাপে পড়বে চীন। একুশ শতকের বাজার ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারবে এখন এই জোট।

প্রেসিডেন্ট ওবামা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে সহযোগী ও মিত্রদের সঙ্গে আমাদের নীতিগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, যা একুশ শতকে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যখন আমাদের গ্রাহকদের ৯৫ শতাংশই সীমান্তের ওপারে বাস করেন, তখন চীনের মতো একটি দেশকে আমরা বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ম-কানুন তৈরির সুযোগ দিতে পারি না।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারও এ চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর ফলে জাপানের বাজারে কানাডীয় কৃষকদের ও অন্যান্য সেক্টরের পণ্য প্রবেশ আরও সহজ হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বলেছেন, এই চুক্তি তার দেশের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেছেন, তার দেশের দুগ্ধবাজারসহ অন্যান্য বাজার এর ফলে প্রসারিত হবে। এতে করে সেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জনসাধারণের আয় বাড়বে ও জীবনমান উন্নত হবে।

এরই মধ্যে জাপান তার বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে খাদ্যপণ্য প্রবেশের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার বাজারে সাশ্রয়ী শুল্কে জাপানে প্রস্তুত গাড়ি প্রবেশের সুযোগ দেবে বলে সম্মত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টিপিপিভুক্ত নয় এমন দেশ যেমন- চীন ও থাইল্যান্ডের পাশাপাশি টিপিপি ও ‘উত্তর আমেরিকা মুক্তবাজার চুক্তির (নাফটা)’ অন্তর্ভুক্ত দেশ যেমন- মেক্সিকো ও কানাডাও জাপানের মতো এতোটা সুযোগ পাবে না।

এদিকে, কানাডা দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের জন্য নিজের বাজার সহজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার আঁখ ও আঁখজাত পণ্য পাবে বিশেষ সুবিধা।

এছাড়া এ চুক্তিতে সরকার ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব নিরসনে বিশেষ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে চুক্তিবদ্ধ সরকারগুলো দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। সেই সঙ্গে ভিয়েতনাম, মেক্সিকো ও মালয়েশিয়ায় শ্রমমান উন্নয়নেরও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে চুক্তিতে।

তবে এ চুক্তি আলোর মুখ দেখতে হলে বেশ কয়েকটি টিপিপিভুক্ত দেশকে তাদের জনগণ ও সংসদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে সমর্থন আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। দেশটির কংগ্রেস এরইমধ্যে হুঙ্কার দিয়ে বসে আছে।

এদিকে, কানাডায় টিপিপি চুক্তি একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় নির্বাচনে। ১৯ অক্টোবর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। বামপন্থি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সরকার গঠন করতে পারলে বেসরকারি ফার্মগুলোকে হুমকিতে ঠেলে দেওয়া এ চুক্তিকে স্রেফ উড়িয়ে দেওয়া হবে।

নিউজিল্যান্ডেও সরব হয়ে উঠেছে বিরোধী পক্ষ। লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত নেতা আনেত্তে কিং সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি দেশের দুগ্ধশিল্পকে টুকরো টুকরো করে দেবে।

এমনকি মালয়েশিয়ায়ও বাণিজ্যমন্ত্রী মুস্তাপা মোহম্মদ জনমতের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত এ ক্ষেত্রে জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য