কুড়িগ্রামের রৌমারীতে চরাঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকার গল্পসাখাওয়াত হোসেন সাখাঃ জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম বেঁচে আছেন চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। প্রতি নিয়ত রোধ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে নিদারুণ কষ্টের জীবন এইসব মানুষের। বাস্তুহারার মতো আজ এ চরে কাল অন্য চরে ঘুরে ঘুরে বসতি গড়ে চলছেন কেউ কেউ। মরা-বাঁচার দায়িত্ব যেন নিতান্তই তাদের একার। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় ও বঞ্চিত চরবাসিরা ক্ষুধা,দারিদ্র্য,অশিক্ষা ও বেকারত্বের অসহনীয় বেদনা ছাড়াও সারা বছর নিরন্তভাবে বিভিন্ন দুরে‌্যাগের সাথে যুদ্ধ করছেন।

প্রতি মুর্হুতে নদী ভাঙ্গন,বন্যা,খরা শৈতপ্রবাহ,সাইক্লোন,সিডরের কারণে তাদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ। চর দখলের মহোৎসব আর নিরাপত্তাহীনতা তাদের জীবনকে করে তুলেছে দুরি¦ষহ। যোগাযোগ,ব্যবস্থা,স্বাস্থ্যসেবা,বিশুদ্ধ পানি , সুষ্ঠু পরিবেশ, আইন সহায়তা বলতে গেলে কিছুই নেই সেখানে। আছে শুধু দুঃখ দুর্দশা,হতাশা,লাঞ্চনা,হামলা-মামলা। এ নিয়ে দেশের চরাঞ্চলের মানুষেরা। এক খন্ড জমির মালিকানা অধিকার প্রাপ্তির আশায় তারা বুক বাধে। কিন্তু সে আশা মেটে না তাদের। অবহেলিত-বঞ্চিত চরবাসীরদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সমন্বিত, উল্লেখযোগ্য কায্যক্রম গ্রহন করা হয়নি। নদী মাতৃক বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে চর এলাকা।

বাংরাদেশের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় বেশির ভাগে চর। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ বহুবিধ ঝুঁকি মাথায় করে বাস করেছেন। তারা মৌলিক অধিকার থেকে  বঞ্চিত। সরকারি সুযোগ-সুবিধা তাদের জন্য স্বপ্ন। তারা অসম বন্টন,নিদারুণ বঞ্চনার মধ্যে জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এজন্য চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ দুর্দশা জীবনের হতাশার চিত্র সূধীজন,গবেষক ও সাংবাকিদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নীতিমালা প্রণয়নের উপস্থাপন করলে চরাঞ্চলের মানুষদের চিত্র পরির্বতন হবে বলে আশা করা যায়। এতে মোট ২৮টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। চরবাসীর জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে সামাজিক-মানুবিক পরির্বতনের জন্য সরকারের দিক থেকে নীতিমালা প্রণয়ন আমাদের প্রত্যাশার মূল লক্ষ্য।

বাংরাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যদের যদি আন্তরিকতার সঙ্গে এই নীতিমালার সুপারিশগুলো গ্রহন করেন তাহলে আমাদের সামগ্রিক ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সার্থক হবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি। সারাদেশের মতো রৌমারী উপজেলায় হলহলিয়া,ঞ্জিনজিরাম,মরাগাঙসহ অনেক ছোট বড় নদী বিদ্যমান। আসুন আমরা সবাই চরবাসি পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশীদার হই। সরকারকেও চরবাসীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করি। ছবিঃ সংগ্রহিত
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য