দিনাজপুরে মধুর সম্প্রসারণ বিভাগের অনিয়ম ও অবহেলায় মধু চাষীদের বেহাল দশাসুবল রায়, বিরলঃ বিভাগীয় মৌ সম্প্রসারণ কর্মকর্তার অনিয়ম আর অবহেলার ও পুঁজি সংকটের কারণে দিনাজপুরের মধু চাষ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ৫’শ ২০ জন মধু উৎপাদনকারী প্রশিক্ষণ নিলেও খামার রয়েছে ১০০ টি আর সফল খামারী রয়েছে জেলায় মাত্র ৪০ জন।

মধু উৎপাদন একটি লাভজনক ব্যবসা। মধুচাষের মাধ্যমে দেশ থেকে বেকার সমস্যা দুর করা যেতে পারে। এজন্য সরকার বিসিকের মাধ্যমে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। মধু চাষ একটি ভাসমান প্রক্রিয়া। লিচু, আম, মুলা, সরিষা কিংবা অন্যান্য ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে বাগানে বা জমিতে ভাসমান অবস্থায় থাকতে হয়। এজন্য কোন নির্দিষ্ট স্থান অফিস বা নির্দিষ্ট সাইনবোর্ড থাকেনা। ভাসমান ব্যবস্থা তাই ঋণ দেয় না কোন ব্যাংক। সুতরাং বেকাররা ঋণ ব্যতিত মধু চাষে সাফল্যের মুখ দেখতে পায় না। কমপক্ষে একটি মৌ খামারের জন্য প্রয়োজন ১ লক্ষ টাকা ঋণ। কিন্তু বিসিকের মাধ্যমে মাঝে মাঝে খুব সামান্য ঋণ দেওয়া হয়।

চলতি অর্থ বছরে ৪ জন খামারীকে ২৫ হাজার টাকা করে স্বল্প সুদে ও স্বল্প মেয়াদে ঋণ দেওয়া হয়েছে। যা খামারীদের কোন উপকারে আসেনি। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। যাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের খাতির রয়েছে তারাই ঋণ পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
মধু চাষী খলিফর রহমান জানান, মৌমাছির ১’শ বাক্স তার রয়েছে। এ বাক্সগুলি পঞ্চগড় লিচু বাগান থেকে দিনাজপুরের একবারপুর আমের বাগানে আনার সময় পানিতে ভিজে তার কিছু মৌমাছির বাক্স ও মৌমাছি নষ্ট হয়ে যায়। পুনরায় মৌচাষ শুরু করতে এখন তার ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। চালু খামার বন্ধ হয়ে গেলেও বিসিকের মধু সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কোন মাথা ব্যথা নেই।  যেখান সম্প্রসারণ অফিস থেকে একবারপুর মাত্র ৩ কিঃ মিঃ দুরে অবস্থিত।

তিনি আরও বলেন যে, বিভাগীয় মধু সম্প্রসারণ বিভাগীয় কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামকে জানানোর পরও তিনি একবারও পরামর্শ দেননি বা একবারও পরিদর্শনের জন্যও এখানে আসেননি। বছরে অন্তত ৪ মাস মধু উৎপাদন বন্ধ থাকে। এই ৪ মাসে বাক্স প্রতি মৌমাছিদের খাদ্য হিসেবে দিতে হয় ২০ কেজি করে চিনির সিরাসহ ফুলের রেণু সাদৃশ্য ডালের বেসন। এসময় ভিমরুলের আক্রমণ হতে মৌমাছিদের রক্ষা করা বড়ই কষ্টকর হয়ে পড়ে। কারণ ভিমরুল মৌমাছিদের হত্যা করে এবং তার রস শোষণ করে। এই সময় মধু চাষীদের একটি বড় অংকের বাড়তি খরচ করতে হয়।

অন্যদিকে, সফল মৌচাষি হাসনাইন জানান, রোগ বালাই দমন ও মৌমাছি পালনের কারিগরী সহায়তা ঐ অফিস থেকে দেওয়ার কথা কিন্তু কোন কিছুই সাহায্য পাওয়া যায় না, মধু সম্প্রসারণ অফিস থেকে। যতটুকু করি আমরা নিজের মেধা দিয়ে ও মধু পালন বই পড়ে করি। অথবা সরকার মৌচাষীদের কারিগরী সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্যই মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে। সাজেদুল ইসলাম অফিসে বসে চাষীদের নিকট থেকে মধু ক্রয় করে নিম্নমূল্যে আর বিক্রয় করে উচ্চ মূল্যে। তিনি চাকুরীর পাশাপাশি ব্যবসা খুলে বসেছেন। বাংলাদেশের মধু এপি, প্রাণ এবং ভারতের ডাবর কোম্পানির বেশীর ভাগ ক্রয় করে থাকে।

বিভাগীয় মধু সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামকে তার অভিযোগ সম্মন্ধে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন দূর্নীতি বা অনিয়ম করি না।

দেশে বেকারত্ব দুর করার জন্য ১৯৯৭ সালে দিনাজপুরের বাঁশের হাটে ‘বিভাগীয় উৎপাদন কাম প্রদর্শনী কেন্দ্র’ (বিসিক) স্থাপন করা হয়। এই অফিসের দায়িত্ব প্রশিক্ষণ কারীগরী সহায়তা প্রদান, বিপণনসহ মৌচাষের সম্প্রসারণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য