দিনাজপুরের জাদুঘরটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তেসুবল রায়, বিরলঃ স্থান স্বল্পতা, জনবলের অভাব আর ভুতূরে পরিবেশ হওয়ায় দিনাজপুরের জাদুঘরটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল জাদুঘরটি জাতীয়করণে বার বার বাধা প্রদান করায় জাদুঘরটি এতদিনেও জাতীয়করণ করা হয়নি। ফলে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে জাদুঘরটি। ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এক্ষুনি জাদুঘরটিকে জাতীয় করণে দাবি করছে জনগন।

১৯৬৮ সালে নরওয়ের একটি সংস্থার অর্থায়নে দিনাজপুর শহরে মুন্সিপাড়ায় জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়। এখানে রয়েছে কান্তজীউ মন্দির, দিনাজপুর রাজবাড়ী, চেহেলগাজী, নয়াবাদ মসজিদ, সুরা মসজিদ, ঘোড়াঘাট দূর্গসহ বিভিন্ন স্থানের ঐতিহাসিক নিদর্শন।

আরো রয়েছে মাটির নিচে প্রাপ্ত হাজার বছর আগের মূল্যবান কষ্ঠি পাথরের বিষ্ণু, শ্রী কৃষ্ণ ও বুদ্ধ দেবের মূর্তি এবং তাম্রপত্র, তালপাতার লেখা রামায়ণ, মহাভারত এবং পুঁথিসহ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। কিন্তু মাত্র ৩ জন স্টাফ নিয়ে এ জাদুঘরটির রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হয় না। যেখানে প্রয়োজন কমপক্ষে ১০ জন  স্টাফ বলে জানান গাইড শওকত আলী।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় ছিনতাইকারী ও নেশাখোরদের ভয়ে এখানে কোন দর্শনার্থী আসে না। আমরা তাদের ভয়ে কিছুই বলতে পারি না।

দর্শনার্থী কবি মমিনুল ইসলাম জানান, স্থানের অভাবে কান্তজীউ মন্দিরের কিছু ভাঙ্গা নিদর্শন মেঝেতে পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে কামান ও কষ্ঠি পাথরের ৩ টি স্তম্ভ বাইরে খোলা আকাশের নিচে প্রায় ২ দশক ধরে পড়ে থেকে ধ্বংস হলেও দেখার কেউ নেই। প্রচারের অভাবে দিনাজপুর জাদুঘরটির কথা অনেকেই জানেন না ।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও খাজা নাজীমউদ্দিন মুসলিম হল ও পাবলিক লাইব্রেরীর ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরীয়ান মিজানুর রহমানের তত্বাবধানে ও একটি কমিটির মাধ্যমে এই জাদুঘরটি পরিচালনা হয়ে থাকে। গুটি কয়েক দোকান ভাড়া এই জাদুঘরের আয়ের উৎস। জাদুঘরটির উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানালেন তত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান।

জাদুঘরটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার এ প্রত্যাশা দিনাজপুর জেলাবাসীর।

[ads1]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য