krisok manobbondonআনোয়ার হোসেন, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাও : ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈলসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে রাজনীতির যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আলু চাষীরা মহাবিপাকে পড়েছে। হরতাল অবরোধ থেকে শুরু করে মূল্য বিপর্যয় কৃষকের মাথায় হাত তুলিয়েছে। এক সময় ছোলা ঘোড়ার প্রধান খাদ্য হিসেবে জায়গা দখল করে রাখলেও এখন তা মানুষের খাদ্যে পুরোপুরি জায়গা করে নিয়েছে। যে কোন চায়ের দোকানে গাজি নামে বিক্রী হচ্ছে সিদ্ধ ছোলা। তাছাড়া রমজান মাসে ইফতারিতে ছোলা ছাড়া কিছুই ভাবা যায়না। মানুষের খাদ্যে আলুর চাহিদা অপূরনীয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এখন তা পশুর খাদ্যে জায়গা করে নিয়েছে। ঠাকুরগাওয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে দেখা যায় মূল্য কমে যাওয়ায় মানুষ এখন ঘাসের পরিবর্তে আলুকে প্রাধান্য দিচ্ছে। গরুর খাদ্য তালিকায় ঘাসের পাশাপাশি সব্জি হিসেবে মানুষের প্রধান খাবার হিসেবে আলু জায়গা করে নেওয়ায় গরুর খাদ্যে পুষ্টিগুন বেড়েছে কতটুকু তা দেখার বিষয়। তবে এবার আলূ চাষীদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গেছে। হাজার হাজার আলু চাষী চোখে সরস্যে ফুল দেখছে। আলুর লোকসান পুষাতে না পেরে ইরি চাষে নামতে না পেরে পথে বসেছে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে আলু চাষীদের চেহারা দেখে বুঝা যায় স্বর্বসান্ত কৃষকের করুন অবস্থার কথা। আলু চাষীরা জানায়, আলু চাষ করে আর্থিক ক্ষতির রেস কাটিয়ে উঠা বড়ই কঠিন হয়ে উঠেছে। জমি বিক্রী করে আলু চাষের বকেয়া দেনা পরিশোধ করতে হবে তাছাড়া কোন উপায় নেই। এঅবস্থায় সরকাররের প্রতি তাদের আহবান, আলু কিনে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী (কাবিখা), টিআর, নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রেশম হিসেবে প্রদান সহ বিদেশে রপ্তানী করার উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আলু চাষীদের দুর্ভোগ যাবেনা। অবিক্রীত আলু নিয়ে হতাশায় ভূগতে হবেনা সরকার এমন উদ্যোগ গ্রহণ করলে।
আলু চাষীরা এখন পর্যন্ত আলু তুলছেনা। অর্থ সংকটে ও লোকসানের কথা ভেবে ৮৫ ভাগ আলূ জমিতে পড়ে রয়েছে। আলু চাষীদের দেওয়া হিসেব মতে এক বিঘা আলু চাষে ১৩/১৪ হাজার টাকা খরচ হলেও ৩/৪ হাজার টাকায় আলু বিক্রী হচ্ছে। যার কারনে অনেকে গরুর খাদ্য হিসেবে আলুকে কাজে লাগাচ্ছে। ৮০ কেজির এক বস্তা গ্র্যানুলার আলূ মাত্র এক’শ টাকায় পাওয়া যায়। যা মানুষ খাচ্ছে পাশাপাশি গরুকে খাওয়াচ্ছে। অন্য জাতের এক বস্তা আলু ১’শ ৬০ টাকা দরে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। গত মৌসুমের আলূ এখন পর্যন্ত পড়ে থাকায় চলতি মৌসুমের আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে আলূ চাষীরা। গত পাঁচ বছর ধরে আলুর ব্যাপক উৎপাদন ও মূল্যহীনতা অব্যাহত থাকলেও সরকারীভাবে এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা।  
চাহিদার তুলনায় আলুর উৎপাদন অনেক বেশী মূল্য বিপর্যয় হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছে আলু চাষীরা। সরকারীভাবে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে উদ্যোগ না নিলে কৃষি বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা দিয়েছে। দেশ পড়বে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য