চালশাহারিয়ার হিরু, দিনাজপুরঃ দিনাজপুরে সুগন্ধী ধান আবাদের এলাকা এবং উৎপাদনের পরিমান দুইই বাড়ছে। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে মূল কাটারী ভোগ চাল।

সরকারী সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলাসহ দিনাজপুর জেলায় ২০১৩-১৪ সনে ৪৯ হাজার ৩৫৮ হেক্টর জমিতে সুগন্ধী ধান আবাদ করে মোট ১ লাখ ৪হাজার ৩৯০ মেঃটন ধান উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে মূল কাটারী ভোগ ধানের আবাদ ছিল ২৭২২ হেক্টরে। উৎপাদিত হয় ৪ হাজার ৬৩৩ মেঃ টন। তার মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলায় মোট ২ হাজার ৭৫ হেক্টরে আবাদ করে কাটারী ধান পাওয়া য়ায় ৩ হাজার ৫৪৪ মেঃ টন।

২০১৪-১৫ সনে জেলায়  সুগন্ধী ধান আবাদ হয় ৫৩ হাজার ১৯০ হেক্টরে। উৎপাদিত হয় মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৩৮৯ মেঃ টন ধান। এর মধ্যে মূল কাটারী ভোগ ধান আবাদ হয় ১ হাজার ২৬৩ হেক্টরে। উৎপাদিত হয় ২ হাজার ১৬০ মেঃ টন কাটারী ধান। এ বছরে দিনাজপুর সদর উপজেলায় কাটারী ধানের আবাদই হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, দিনাজপুর জেলায় এই সনে সুগন্ধী ধানের আবাদ হয়েছে গত সনের চেয়ে ৩ হাজার ৮২২ হেক্টর বেশী জমিতে। তবে এবারে কাটারীর আবাদ হয়েছে ৩৫৭ হেক্টর কম জমিতে। কাটারী ভোগের এলাকা বলে পরিচিতি দিনাজপুর সদর উপজেলাতে এ বছরে কাটারী ভোগ ধানের আবাদই হয়নি।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনাজপুরে যে সব সুগন্ধি ধানের আবাদ হয় তার মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান-৩৪, কাটারী ভোগ , জিরা কাটারী, কালো জিরা, বাদশা ভোগ, চিনি কাটারী প্রভৃতি। হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদন ব্রিধান-৩৪এর। উৎপাদনের মাত্রায় রয়েছে জটা কাটারী। এর হেক্টর প্রতি উৎপাদন ১.৭১৯৫ মেঃ টন। কাটারী ভোগের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ১.৭০৮ মেঃ টন।

জমির পরিমানের সাথে সুগন্ধী ধানের উৎপাদনের অনুপাত ১ঃ৫। অর্থাৎ এক হেক্টর জমিতে সুগন্ধী ধান আবাদ করে কৃষক পাবেন ১০ হাজার মেঃ টন ধান। যার মূল্য বাবদ কৃষক পাবেন ৩০ হাজার টাকা। উৎপাদনের এই পার্থক্যের কারন ছাড়াও উভয় প্রকার ধান আবাদের ব্যয়েরও পার্থক্য রয়েছে। তবে দিনাজপুরের সুগন্ধী ধান/চাল বিদেশে রপ্তানী করা গেলে এই ধান/চালের স্থানীয় বাজার মূল্য সাড়ে তিন হতে চার গুন বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগে সুগন্ধী ধানের আবাদ করতেন এখন করেন না দক্ষিণ কোতয়ালীর কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপ হলো। তারা বলেন, বিদেশে রপ্তানীর উদ্যেগ নিয়ে সরকার সুগন্ধী ধান আবাদের স্থবিরতা কাটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সতর্কবার্তাঃ-
উক্ত বিষয়ে রিপোর্টটির কোন অংশ সংযোজন, বিয়োজন, সংশোধন, পরিবর্তন করে ব্যবহার বা অনুমতি ব্যতিত এর কোন কন্টেন্ট ব্যবহার আইনগত অপরাধ যে কোন ধরনের কপি-পেষ্ট কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচার যোগ্য তবে রিপোর্টি ফেসবুকে সেয়ার করতে কোন বাধা নেই
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য