SAM_1446দিনাজপুর সংবাদাতাঃ যানজটে নাকাল দিনাজপুর পৌরবাসী,  এই অসহনীয় যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত পৌর কতৃপক্ষের কোন উল্লেখযোগ্য উদ্দোগ গ্রহন করতে দেখা যায়নি। বর্তমান পৌরমেয়াদ কালে দু-দুবার পৌর কর বাড়ানো হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট সম্প্রসারন, মেরামতে এবং বর্তমানে শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট নিয়ত্রনের বিষয়ে পৌরসভার উদাসিনতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিতাড়িত ইজিবাইক গুলো এখন দিনাজপুর শহরে তাদের ব্যবসা শুরু করেছ, যারা মানছে না কোন প্রকার ট্রাফিক আইন। ছোট এ শহরের সংকির্ন রাস্তা গুলোতে ইজিবাইক গুলো কখনও দুই আবার কখনও তিন সারিতে একই দিকে যেতে দেখা যাচ্ছে, ফলে অপর দিক থেকে আসা যানবাহন গুলি পার হওয়ার সময় লেগে যাচ্ছে যানজট।

২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের কাচারি এলাকা থেকে লিলির মোড় পর্যন্ত এই অসহনীয় যানজটে লক্ষ করা যায়। এদিকে একই সময় ষ্টেশন রোড় থেকে শহরের বাহাদুর বাজার হয়ে লিলি মোড় পর্যন্ত রাস্তা যানজটের কারনে প্রায় দেড় ঘন্টা চলাচল বন্ধ ছিল, সেসময় স্থানিয় জনগনকে ট্রাফিকের দ্বায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এসময় উক্ত স্থান গুলোতে কোন ট্রাফিক পুলিশ লক্ষ করা যায়নি।
SAM_1447
তীব্র এ যানজটের মূল কারন হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাই এবং মালবাহি ছোট বড় ট্রাক গুলোকে দায়ী করছে শহরের সাধারন জনগন। যানজটের কারনে আটকে পড়া মোটরসাইকেল আরহী পুলহাট নিবাসী মজাম্মেল হোসেন খোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের বাহিরে ট্রাক টার্মিনাল থাকতে এসব ট্রাক সপ্তাহের ব্যস্ততম দিনে শহরের ব্যাস্ততম এলাকায় কেমন করে ঢুকছে, আর এত ইজিবাইক শহরে কেন চলতে দেয়া হচ্ছে?

হাসপাতাল মোড়ে এসময় আটকে পড়া একটি এম্বুলেন্স থেকে রোগির এক স্বজন নেমে এসে  ইজি বাইক চালোকদের কাছে অনুনয় করতে দেখা যায়। কিন্তু একজন শুনলেও অন্য জন শুনছেনা এমন পরিস্থিতিতে কিছু স্থানিয় ছেলে লাঠি হাতে ইজি বাইক গুলোকে আটকে এম্বুলেন্সটিকে হাসপাতালে ঢুকতে সাহায্য করে।

বাজার করে ফেরার সময় যানজটে আটক শহরের প্রবীণ নাগরিক লৎফর রহমান মাষ্টার বলেন, আমরা একটা ছোট শহরের বসবাস করছি, এখানে এত ইজি বাইকের প্রয়োজন কি? পৌরসভা বছর বছর পৌরকরসহ অন্যান্য খরচ বাড়িয়ে চলছে কিন্তু রাস্তাঘাট সংস্কার, সম্প্রসারন কিংবা যানজট নিয়ত্রনে তাদের কোন ভুমিকা দেখি না। এখনি এ সমস্যার সমাধান না করলে ভবিষতে যানজট আরও বড় আকার ধারন করবে বলে তিনি মনে করেন।

দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড় থেকে পুলহাট বিসিক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলমিটার প্রধান রাস্তাটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছোট্ট দিনাজপুর শহর। আর এইটুকু রাস্তায় বর্তমানে দশ হাজারের বেশী ইজিবাইক চলাচল করছে, যার চালকদের অধিকাংশেরই কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এই ইজিবাইক চার্জের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। দিনাজপুর পৌরবাসী ও সাধারন পথচারিরা ইজিবাইক নিয়ত্রনে দিনাজপুর পৌরসভা কতৃপক্ষ এবং প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন কামনা করছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য