Nilphamari mapজেলার জলঢাকা ডিগ্রি কলেজ ও টেংঙ্গনমারী কলেজে টাকার বিনিময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের চাকরি দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে নীলফামারী সার্কিট হাউজে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর মোহাম্মদ নাসিমের সভায় চরম হট্টোগোলের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, এক যুগ ধরে ইসিজি মেশিন বাক্সবন্দী, জেনারেটর ও এক্সরে মেশিন অচল, সবধরনের অপারেশন বন্ধসহ চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ডিজিকে হাসপাতাল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার অভ্যন্তরে থাকা সদ্যবিলুপ্ত ভারতীয় ছিটমহল এলাকা পরিদর্শন শেষে রাতে নীলফামারী সার্কিট হাউজে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জলঢাকা ডিগ্রি কলেজ ও টেঙ্গনমারী কলেজে টাকার বিনিময়ে শিবির নেতাকর্মীদের চাকরি দেয়ার ঘটনাটি ওই এলাকার সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তাফার উপস্থিতিতে মন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনেন, জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শহিদ হোসেন রুবেল।

একই সভায় সৈয়দপুর কলেজে শিক্ষক নিয়োগেও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে বক্তব্য রাখেন- সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। সভা শেষে মন্ত্রী স্থানীয় নেতাদের সাথে কুশল বিনিময়ের সময় নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা মন্ত্রীকে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে কিছু একটা বলার সময় শহিদ হোসেন রুবেল তার তীব্র বিরোধিতা করেন।

এ সময় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা উত্তেজিত হয়ে শহিদ হোসেন রুবেলকে স্টুপিট বলে গালি দিলে উভয়ের মধ্যে চরম বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। এক অপরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন তারা এবং জামায়াত শিবিরের দালাল বলেও গালিগালাজ করেন। ঘটনাটি হাতাহতির পর্যায়ে যাওয়ার উপক্রম হলে মন্ত্রী নিজেই তাদের নিবৃত্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে, জেলার প্রতিটি বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক-কর্মচার নিয়োগ বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিটি নিয়োগে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়ার ঘটনা ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। কোনো কোন সংসদ সদস্য তার নিজ এলাকার প্রতি নিয়োগে একলাখ টাকা করে গুনছেন। এরইমধ্যে কয়েকজন সংসদ সদস্যকে জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের টেবিলে বসে নিয়োগ বাণিজ্য তদারকি করতে দেখা গেছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য