চিলমারীর কৃষকের চোখে জল,পাওনাদারের ভয়ে বাড়ি ছাড়াকুড়িগ্রামের চিলমারীর উপজেলায় বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও এখনো অনেক এলাকা তলিয়ে আছে। ফলে প্রায় ১ মাস ধরে এ বন্যায় থানাহাট, রমনা, রানীগঞ্জ, নয়ারহাট,অষ্টমীরচার, চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় সকল এলাকার কৃষিতে নেমে এসেছে বিপর্যয়। ক্ষেতের পর ক্ষেত জুড়ে রোপা আমনসহ অন্যান্য ফসল বন্যার কারণে পরিণত হয়েছে শুধু আগাছায়। রোপা আমন ও বীজতলা পচে দূগন্ধে চারদিকের পরিবেশেও বিপর্য নেমে এসেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে কৃষকরা এখন দিশেহারা। আগামি দিনগুলো কীভাবে চলবে এই দুশ্চিন্তায় পড়েছে সর্বহারা প্রায় ৩৮ হাজার কৃষক। ইতোমধ্যে অনেকেই বাড়ি ছেড়েছেন পাওনাদারের ভয়ে।

মাছাবান্দা এলাকার কৃষক জোবায়ের জানায় এবারে বন্যার রোপা আমন, পাটক্ষেত, সবজি, ডাল ও মাছ চাষে তার প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। রমনা সরকার পাড়া মুদাফৎ থানা এলাকার কৃষক মোসলেম জানান, বোরো মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ার পর এবার ৯০ শতাংশ জমিতে প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ করে আমন রোপণ করেছিলাম। নিড়ানি সার সবই দেওয়া ছিল জমিতে। স্বপ্ন দেখছিলাম ফসল ঘরে তুলব। কিন্তু বারবার বন্যায় আমার সব স্বপ্ন চুরমার করে দিয়ে গেছে।

এখন ঋণে জর্জরিত হয়ে পাওনাদারের জন্য বাড়িতেও থাকতে পারছি না। শুধু মোসলেম নয় তার মতো ভুট্টু, ফুলমিয়া, মুকুল, নুরুলহক, মোনারুল, আঃ হালিমসহ এই এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক জানান তাদের দুঃখ কষ্টের কথা। যাঁরা সবকিছু দিয়ে আমন রোপণ করেছিলেন অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু বন্যায় তারা এখন সর্বশান্ত। মাঠের পর মাঠ আমনের ক্ষেত মাস ব্যাপী পানির নিচে থাকায় এবং বন্যার পলি ও বালিতে সাদা রঙ ধারণসহ পচে গলে চারদিকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সূত্র মতে উপজেলার রোপা আমন, বীজতলাসহ সবজি ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল আর সবজি ক্ষেত। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজারের ওপর। কৃষকরা বলছেন, বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখনো অনেক এলাকার পানি নেমে না যাওয়ায় ওই জমি নতুন করে প্রস্তুত করে আমন রোপণ সম্ভব নয়।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বিকল্প ফসল আবাদ করা যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিন মিয়া জানান, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কম সময়ে ফলন হয় এমন কিছু রবি ফসলের বীজ সরবরাহ ও কৃষি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি কমলেও এখনো বিভিন্ন এলাকার বন্যার পানি নামতে শুরু করেনি। ফলে গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কট এখনও কাটেনি। বন্যা ও বাঁধ ভাঙা পানিতে মাঠের পর মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে গোচারণ ভূমি। বন্যার পানিতে ডোবা কিছু মাঠে ঘাস দেখা গেলেও ওসব ঘাসে লেগে আছে কাদা ও পলিমাটি।

ফলে সেসব ঘাস গো-খাদ্যের অনুপযোগী হওয়ায় গো-খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় কৃষকরা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন তাদের মজুদকৃত খড়। যাদের একটু সম্বল আছে তারা বাজার থেকে ভুষি ও ধানের কুঁড়া কিনে গবাদি পশুর খাবারের জোগান দিচ্ছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য