02_russia-ukraineইউক্রেন সংকটের বিপজ্জনক ক্রমবিস্তার ঠেকাতে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেস্টার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে মস্কোর সমরসজ্জার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়ার গ্র“প অব এইট (জি-৮) ’র অংশীদার দেশগুলো।
বিশ্বের বৃহত্তম ৭ টি শিল্পোন্নত দেশ জুনে রাশিয়ার সোচিতে জি-৮ সম্মেলন বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের অবস্থান জোরদার করার প্রেক্ষাপটে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ক্রিমিয়ায় কোন ধরনের গোলাগুলি হয়নি এবং কোন চুক্তিও হয়নি। তারপরও এলাকাটি এখন কার্যত রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে।
ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের দুটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটির চারপাশে স্থানীয় আত্মরক্ষা গ্র“পের সদস্য দের সঙ্গে রাশিয়ার সেনারা অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় আত্মরক্ষা গ্র“পের সদস্য রা দাবি করেছে, সেখানকরা ইউক্রেন সৈন্যরা কিয়েভের পক্ষ ছেড়ে ক্রিমিয়ায় রাশিয়াপন্থী নতুন সরকারের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। নৌ সদর দপ্তর এখনও অবরুদ্ধ এবং বিমানবন্দরের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে এখনও দখলদারিত্ব বজায় রয়েছে। বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ক্রিমিয়াকে কার্যত আলাদা করে রাখা হয়েছে।
রাশিয়াপন্থী বিক্ষোভকারীরা মস্কোর হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ক্রিমিয়ার সব পক্ষই পরবর্তীতে কি ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। ইউক্রেনের অন্তবর্র্তী সরকার রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ করেছে এবং ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে ক্রিমিয়া থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে পশ্চিমা দেশগুলোর আহবানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। তিনি বরং বলেছেন, মস্কো তার স্বার্থ ও ইউক্রেনে রুশভাষীদের সুরক্ষার অধিকার রাখে। ফ্রান্স, জার্মানী, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও রাশিয়া জি-৮ এর সদস্য। ১৯৯৮ সালে রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পোন্নত দেশগুলোর এ জোটে যোগ দেয়ার আগে এর নাম ছিল জি-৭। কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানী, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র যেকোন ধরনের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মোকাবেলায় রাশিয়াকে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার আহবান জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লংঘনের নিন্দা জানাচ্ছে জি-৭।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা জুনে সোচিতে জি-৮ সম্মেলন বর্জনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জি-৭ অর্থমন্ত্রীরা বলেছেন, তারা ইউক্রেনকে ব্যাপক অর্থ সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) দ্রুত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। অপরদিকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছেন। রোববার ন্যাটো এক জরুরি বৈঠক করেছে এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হেগ ইউক্রেনের নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য কিয়েভ গিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরির মঙ্গলবার কিয়েভ যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনে সৈন্য পাঠিয়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে শনিবার অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একইসঙ্গে তিনি সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে রাশিয়া রাজনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে যেতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এক টেলিফোন আলাপে ওবামা ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত উপদ্বীপ ক্রিমিয়া থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে পুতিনকে আহবান জানান। ন্যাটোর এক বিবৃতিতেও ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার সমরসজ্জার নিন্দা জানানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য