02.delhi-airportইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে শুক্রবার মধ্যরাতে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে। তবে এ ঘটনায় একাধিক বিমানে তল্লাশি চালিয়েও কোনো বোমা খুঁজে পাওয়া যায়নি। গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে গুরাগাওয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কলসেন্টারে ফোন করেন অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি। তিনি এই মর্মে হুমকি দেন যে, সেখানকার তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বোমা রয়েছে।

দিল্লি বিমানবন্দরের সূত্রটি জানিয়েছে, সে তিনটি বিমানে বোমা রয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল সেগুলো হচ্ছে, হংকংগামী জেট এয়ারওয়েজের ৯ডব্লিউ০৭৮, হংকংগামী ক্যাথে প্যাসিফিক কোম্পানির সিএক্স৬৯৪ এবং জুরিখগামী সুইস এয়ার কোম্পানির এলএক্স১৪৭ নং ফ্লাইটটি। এদের মধ্যে জেট এয়ারওয়েজ ও ক্যাথে এয়ারওয়েজের বিমান দুটি নির্ধারিত সময়ে দিল্লি বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ায় তাদের ফেরত আসার নির্দেশ দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ।

রাত আড়াইটার দিকে ১৯৪ জন যাত্রী ও ১২ ক্রু নিয়ে নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে এয়ারওয়েজের বিমানটি। এ ছাড়া সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া অন্য বিমানটিতে ছিল সবমিলিয়ে ৩৫১ জন যাত্রী। দেশের একটি বিচ্ছিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিমান দুটিতে তল্লাশি চালানো হয়।

এর আগে সকল আরোহীকে বের করে নেয়া হয়েছিল। তল্লাশি থেকে বাদ যায় নি যাত্রীদের লাগেজগুলোও। তল্লাসির জন্য সুইস এয়াওয়েজের বিমানটিকেও গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তল্লাশি শেষে ভারতের বোমা সনাক্তকারী বিশেষ সেনাদলকে হতাশ হতে হয়েছে। কেননা ওই তিনটি বিমানের একটিতেও  কোনো বোমা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তারা দিল্লি বিমানবন্দরের অন্যান্য বিমানেও তল্লাশি চালায়। এর ফলে বেশ কিছু ফ্লাইটের গন্তব্যে রওয়ানা হতে বিলম্ব হয়। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে দিল্লি বিমানবন্দরের অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়েই ওঠানামা করছে সকল  বিমান। এ ছাড়া শনিবার সকালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যাত্রা শুরু করেছে বোমাতঙ্কে থাকা সুইস এয়ারওয়েজের বিমানটিও। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালোরের পুলিশ। টেলিফোনে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে এনডিটিভি।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য