বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের সাথে মুখ্য সচিবের ভিডিও কনফারেন্সসদ্য বিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়া আয়তন ও লোক সংখ্যায় সবচেয়ে বড়। এ কারণে প্রধান মন্ত্রীর কাছে দাশিয়ারছড়াকে মুজিব-ইন্দিরা ইউনিয়ন ঘোষনার দাবি স্থানীয়দের। সাবেক ছিটমহলবাসীর জন্য নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের হল রুমে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান মন্ত্রীর দপ্তরের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ছিটমহলবাসীদের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসুচির খোজ-খবর নেন এবং বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর সমস্যা ও চাহিদার কথা শোনেন।

পাশাপাশি তিনি ৬৮ বছরের বঞ্চনার শিকার এসব মানুষদের দ্রুত ভাগ্য উন্নয়নে সরকারের সকল বিভাগকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়ার নুর নাহার বেগম ও আলতাফ হোসেন বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এ ভিডিও কনফারেন্সে। বিশেষ করে দাশিয়ারছড়াকে ইউনিয়ন ঘোষনার দাবি জানান। আর এ ইউনিয়নের নাম হবে মুজিব-ইন্দিরা ইউনিয়ন। তাদের এ ইচ্ছে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন কুড়িগ্রাম জেলার অভ্যন্তরের বিলুপ্ত ১২টি ছিটমহলের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। এ ভিডিও কনফারেন্সে জেলা পর্যায়ের সকাল বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। জানানো হয় ১২টি ছিটমহলের মোট অধিবাসীর সংখ্যা ৭হাজার ৮২৭জন। আর ভারতে যাবে ৩০৫জন। তিনি আরো জানান খুব অল্প সময়ের মধ্যে দাশিয়ারছড়ায় ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা এবং একটি উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন করা হবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য। এ ছাড়া ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে তোলা ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপসারণ করা হবে শীঘ্রই।

পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ্ জানান, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদাড়ি। দাশিয়ারছড়ায় স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। জমিজমার বিরোধের জের ধরে মারামারিকে কেন্দ্র করে দাশিয়ারছড়ার অধিবাসী শহিদুল ইসলাম ফুলবাড়ী থানায় এশটি মামলা দায়ের করেছে।  আসামি ২জন। তারা হলেন ঐ দাশিয়ারছড়ার হানি মিয়া ও শাহিন মিয়া। এটিই বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রথম মামলা। পুলিশ তা গুরুতের সাথে তদন্ত করে দেখছে।

কারণ এসব মানুষ দীর্ঘ ৬৮ বছর শুধু অধিকার বঞ্ছিত ছিল না। কোনো দেশের আইনি সহায়তা পেত না। বলা চলে বিচারহীন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ছিল তাদের জীবন-যাপন। যেখানে খুনের বিচার ছিল অর্থ দন্ড। জোড়যার মুল্লুক তার, এই ছিল অবস্থা। এখন বিচারের পথ খুলে গেল। তারা আইনি সেবা নিতে শুরু করেছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক শওকত আলী, দাশিয়ারছড়াসহ বিলুপ্ত ১২টি ছিটমহলে কৃষি বিভাগের নেয়া বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এ ভিডিও কনফারেন্সে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য