কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতিকুড়িগ্রাম সংবাদাতাঃ কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ না পৌছায় দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসীরা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট। জেলা প্রশাসন থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা এখনও বিতরণ শুরু হয়নি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান,জেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। জেলার নাগেশ্বরী পৌর এলাকার ডুবাছড়ি ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ডায়নারপাড়, দীঘিরপাড়, জামতলা, চৌবাড়ী, বাবুরহাট, ডাকনিরপাট, ভগিরভিটা, আরাজীকুমরপুরসহ ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। অপর দিকে জেলার ৯ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের কাঁচাপাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জেলা শহর থেকে পাঁচগাছি ইউনিয়নে প্রবেশের পাকা রাস্তার উপর হাঁটু পানি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার ঝুনকার চরের বাসিন্দা আনোয়ার জানান, বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ী সব তলিয়ে আছে। আর থাকার মতো অবস্থা নাই। বউ, বাচ্চা, হাস-মুরগী নিয়ে উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। খাবার নাই, শুকনো খাবার খেয়ে কোনো রকমে দিন পার করছি।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানান, আমার ইউনিয়নে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। এসব পরিবারের জন্য মাত্র ৩ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। তালিকা তৈরি হচ্ছে। ২/১দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

নাগেশ্বরী পৌরসভার মেয়র আবদুর রহমান জানান, পানির প্রবল ¯্রােতে ডুবাছড়ি ব্রীজটি ভেঙে ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমি ব্রীজটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুত যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা করাসহ ব্রীজটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শওকত আলী জানান, বন্যার পানিতে গত ৪ দিন ধরে নিমজ্জিত হয়ে আছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, বন্যা দুর্গতদের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী দ্রুততম সময়ে বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৩ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য