02. Britain and Iranইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরানে প্রায় চার বছর বন্ধ রাখার পর আবারও দূতাবাস খুলছে যুক্তরাজ্য। এদিকে যুক্তরাজ্যেও ফের চালু হচ্ছে ইরানি দূতাবাস। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড বলেছেন, তিনি রোববার ইরানে ফের যুক্তরাজ্যের দূতাবাস উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে তিনি একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরান যাবেন। ২০০৩ সালের পর যুক্তরাজ্যেও প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে হ্যামন্ড ইরান যাচ্ছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি হ্রাসে বিশ্বের ছয় জাতির সঙ্গে তেহরানের একটি চুক্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তিনি এ সফর করছেন।

২০১১ সালে যুক্তরাজ্য ও ইরানে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাস বন্ধ হয়ে যায়। হ্যামন্ড বলেন, পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো ও ২০১৩ সালের জুনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে রুহানির বিজয় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, দুই দেশের দূতাবাস পুনরায় চালু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসবাদ, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, সিরিয়া ও ইরাকে আইএসআইএল’র বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসনসহ উভয় দেশ যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় তা নিয়ে আলোচনার জন্য ব্রিটেন ও ইরান প্রস্তুত। প্রাথমিকভাবে ইরানে যুক্তরাজ্যের দূতাবাসে অজয় শর্মাকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে হ্যামন্ড বলেন, আগামি কয়েক মাসের মধ্যে তা পূর্ণ দূতের পদমর্যাদায় উন্নীত করতে একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির জের ধরে তেহরানের ওপর আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে যুক্তরাজ্য। প্রতিক্রিয়ায় ২০১১ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় তেহরান। দুদিন পর তেহরানে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাসে হামলা চালায় ইরানের বিক্ষোভকারীরা। বন্ধ হয়ে যায় যুক্তরাজ্যের দূতাবাস। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে লন্ডনে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও বন্ধ করে দেয় যুক্তরাজ্য।

২০১৩ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হন হাসান রুহানি। তিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগী হন। সর্বশেষ, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধ হওয়ার প্রায় চার বছর পর ফের দূতাবাস খুলছে যুক্তরাজ্য ও ইরান।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য