pict- afzalফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার রাস্তাঘাট ও ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে দূগন্ধে জনদূর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী।

১৯৮৩ সালে ফুলবাড়ী পৌরসভাটি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে পর্যায়ক্রমে পৌরসভার দায়িত্বে আসা পৌরচেয়ারম্যানেরা পৌরসভার মাস্টার প্লান তৈরি না করে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ব্যাঙ্গের ছাতার মত নাম কা ওয়াস্তে নিম্ন মানের ড্রেন নির্মাণ করায় এখন ঐ সব ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয় না।

মাঝে মধ্যে এ মাথা থেকে ও মাথায় ড্রেন পরিষ্কার করলেও অনেক ড্রেন আবর্জনায় ভর্তি হয়ে পড়ে থাকে। পৌরকর্তৃপক্ষ হাতে গনা মূল কয়েকটি ড্রেন পরিষ্কার করলেও বাকি ড্রেন গুলি পরিষ্কার করা হয় না।

বর্ষাকাল এলে ঐ ড্রেনগুলিতে ভর্তি হওয়া ময়লা আবর্জনা পানিতে মিশে ড্রেন উপচে রাস্তায় ছড়াছড়ি হচ্ছে। কারণ অপরিকল্পিত ড্রেনগুলির পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই।

এতে করে এলাকায় রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে মশা মাছি। ফলে এলাকায় সর্দি, কাশি সহ নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পৌরবাসী। অভিযোগ উঠেছে পৌর নাগরিকেরা পৌরসভার ট্যাক্স পরিশোধ করলেও পৌর সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেমন, বিশুদ্ধ পানির অভাব, পর্যাপ্ত পরিমাণে সব রাস্তায় লাইটিং এর ব্যবস্থা নেই।

গত সাড়ে ৪ বছরে ফুলবাড়ী পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় রাস্তার পুনঃ নির্মাণ হলেও রাস্তার কাজ কর্মগুলিতে অনিয়ম দেখা গেছে। রোলার ঠিকমত করা হয়নি, ইটের গুণগতমান পরীক্ষা করা হয়নি, উচ্চতা সিডিউল মোতাবেক হয়না, রোলার হওয়ার পর রাস্তায়  কার্পেটিং থিসনেস এর পরিমান কম, বিটুমিনের পরিমান কম।

পৌরসভার বিধি মোতাবেক টেন্ডার হওয়ার পর কাজ করার কথা থাকলেও অনেক কাজ টেন্ডারে আগেই মনমত ঠিকাদার মাধ্যমে করানো হচ্ছে । পরবর্তীতে ঐ সব কাজের টেন্ডার দেওয়া হলে ঠিকাদারদেরকে বলে দেওয়া হয় ঐ সব কাজের সিডিউল নেওয়া যাবে না। কারণ ঐ সব কাজ আগেই করা হয়েছে।

অপরদিকে পৌরসভার কতিপয় ঠিকাদার তাদের কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও তারা লাইসেন্সের বলে কাজ নিয়ে সিডিউল মোতাবেক কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পৌরসভার কতিপয় কাউন্সিলর তাদের অন্য নামে লাইসেন্স নিয়ে পৌরসভার কাজ করছেন। আবার কেউ কেউ নিজের নামে লাইসেন্স দিয়ে পৌরসভার কাজ করে যাচ্ছেন।

তাদের কাজগুলি পৌরসভার প্রকৌশলীরা তদারক না করার কারণে ইচ্ছেমত কাজ সমাপ্ত করছে ঠিকাদার। প্রতি বছর ফুলবাড়ী পৌর মেয়র বৈশাখী মেলার আয়োজন করলেও সেই বৈশাখী মেলায় পৌরবাসীর রাজস্বখাতের টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ সেখান থেকে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশী হচ্ছে। এতে করে অর্থ অপচয় হচ্ছে। পৌরকর্তৃপক্ষের নেক দৃষ্টি ও সুষ্ঠ তদারকের অভাবে পৌরসভায় উন্নয়নমূলক কাজগুলি ব্যহত হচ্ছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য