সৈয়দপুরের স্কুল ছাত্র সাকিব হত্যাকান্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশচাঞ্চল্যকর নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারী কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সিরাজুম মনির সাকিব হত্যাকান্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই মাস হতে চললেও হত্যাকান্ডের কুল কিনারা না পাওয়ায় মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করছে তারা।

এদিকে মামলার তদন্ত কাজে পুলিশের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ এতদিনেও কাউকে শনাক্ত না করায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিহত সিরাজুম মনির সাকিব সৈয়দপুর টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের পিছনে কলেজপাড়া হাতিখানা কবরস্থান সংলগ্ন ভাড়া বাড়িতে বাবা হাবিবুর রহমান খান, মা শিউলি আক্তার ও বোন সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে ভাড়া বাড়ীতে থাকতো।

গত ১২জুন ছেলে সাকিবকে ভাড়া বাসায় রেখে বাবা-মা ও বোন বেড়াতে যান জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের নানার বাড়িতে। পরদিন সন্ধ্যার পর ভাড়া বাড়িতে এসে তাকে বিভিন্ন স্থানে খুঁেজ না পেলে তাদের সন্দেহ হয়। রাতে ঘরের টিন কেটে প্রবেশ করে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় বাবা হাবিবুর রহমান খান।

পরে পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ নীলফামারীর মর্গে পাঠায়।
নিহতের মা শিউলি আক্তার জানান, পরীক্ষা থাকায় তাকে আমরা সাথে নিয়ে যায়নি। ১৩জুন সাকিবের সাথে দুপুর পর্যন্ত মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। সন্ধ্যার আগে ও পরে তার বন্ধুরা তাকে খুজতে গেলেও ভাড়া বাড়ির লোকজন ঘুমিয়ে রয়েছে বলে তার বন্ধুদের পাঠিয়ে দেয়। মা শিউলির অভিযোগ, বাড়িতে কেউনা না কেউ প্রবেশ করে আমার ছেলেকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে।

বাবা হাবিবুর রহমান, একই অভিযোগ করে বলেন, যেভাবে হাত, মুখ বেঁধে লাশ ঝুলে রাখা হয়েছিলো তা বিচক্ষণ মানুষ ছাড়া আর কেউ করতে পারেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ঘটনার দিন ওই বাড়িতে যারা ছিলো তাদের জিঙ্গাসা বাদ করলে হত্যাকান্ডের মুল রহস্য বের হয়ে আসবে।
নিহতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা মায়ের পাশাপাশি পড়ার সাথী ভাইকে হারিয়ে যেন কান্না থামছে না ছোট সুমাইয়া আক্তারের। সুমাইয়া আক্তার অতিদ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মুলক বিচার দাবী করেছে সে। একই দাবী জানিয়েছে সাকিবের সহপাঠিরাও।
বিদ্যালয়ের একই শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার সরকার শাওন জানায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এটা মেনে নিতে পারি না। একটি নক্ষত্র নিভে যাবে তা হতে পারে না। তার মৃত্যুতে আমরা নিরাপত্তাহীনতা ভুগছি।

ইতোমধ্যে সাকিব হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। আরও কঠোর কর্মসুচী গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে তারা।

সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার সহকারী প্রধান আফতাবুর রহমান হেলালী জানান, সাকিবের হত্যাকান্ড আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া এখন প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে জানতে চাইলেও আমরা তাদের আশানুরুপ তথ্য দিতে পারছি না।

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে খুনিদের বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। পরিবারের দাবী বর্তমান সরকার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে। আমাদের সন্তান হত্যাকারীরাও ছাড় পাবে না বলে বিশ্বাস তাদের।

এদিকে ঘটনার সাথে জিড়তদের বের করতে বা ধরতে পুলিশের তরফ থেকে কোন ত্রæটি নেই বলে জানিয়েছে আইন শৃক্সখলা বাহিনী। ময়না তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী মেধাবী ছাত্র সাকিবকে শ্বাষরোধ করে হত্যা করা হয়েছে নিশ্চিত হওয়া গেলেও মামলাটি ক্লুলেস ও স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, আমরা তদন্তে কোন ঘাটতি রাখি নাই। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য