ডিমলায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল আটক অভিযানডিমলা, নীলফামারী সংবাদাতাঃ নীলফামারীর ডিমলায় মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের নামে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মালিকদের। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) নীলফামারী অফিসে মোটর সাইকেলের মালিকদের নিকট নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৩হাজার টাকা করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

ঘুষের টাকা না দিলে ৭দিনও পাওয়া যাচ্ছে না বিআরটিএর কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল। নীলফামারীর জেলায় সৈয়দপুর উপজেলায় একমাত্র ব্র্যাক ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা ছারা জমা দিতে পারছে না ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল মালিকগন। ঘুষের ১হাজার টাকা দিলে যেমন সহজে মিলছে জমা দেয়ার ব্যবস্থা। অন্যথায় দীর্ঘ ৬৮ কিলোমিটার দূর থেকে ডিমলার মোটরসাইকেল মালিকদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও মিলছেনা রেজিষ্ট্রেশনের টাকা জমাদানের অনুমতি। ভুক্তভোগী মোটর সাইকেলের মালিকগন রেজিস্ট্রেশনের টাকা একাধিক ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার দাবি করেন। এশাধিক ব্যাংকে টাকা জমা নেয়া হলে পোহাতে হবেনা আর ভোগান্তি।

ডিমলা উপজেলার দোহলপাড়া গ্রামের মোটরসাইকেল মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, নীলফামারীর বিআরটিএ অফিসে টাকা না দিলে বিভিন্ন কাগজের জন্য বলেন। তিনি ২হাজার টাকা দিয়ে কাগজ দ্রুত করে দেয়। রুপাহারা গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, সৈয়দপুরে ব্র্যাক ব্যাংকে ঘুষের টাকা জমা না দিলে ঘন্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাড়িতে থেকেও টাকা জমা দেওয়া যাচ্ছে না।

একশ্রেনীর দালালকে ১হাজার টাকা প্রদান করার তার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে পেরেছেন। সদর ইউনিয়নের দক্ষিন তিতপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৬৬ কিলোমিটার দূরে গিয়ে সৈয়দপুর ব্র্যাংক ব্যাংকে মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিতে হচ্ছে। নীলফামারীর সদরে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারলে ভোগান্তি কম হত।

নীলফামারীর পুলিশ প্রশাসন রেজিস্ট্রেন বিহিন মোটরসাইকেল অভিযানের কারণে চরম বিপাকে মোটরসাইকেল মালিকগন। ডিমলায় ৮৪টি মোটরসাইকেল পুলিশ আটক করলেও টাকা জমা দেয়ার জটিলতার কারণে ৩৯টি মোটর সাইকেলের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঝুনাগাছ চাপানি বাজার থেকে ভারতীয় ১টি ১২৫সিসি ডিসকোভার চোরাই মোটরসাইকেল আটক করে পুলিশ।

মোটর সাইকেলের মালিক ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছাতুনামা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আবদুস সালাম। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই কাজের জন্য মোটর সাইকেলটি ব্যবহার করা হত। তবে পুলিশ জানায়, মোটর সাইকেলটি চেচিস নম্বর ও ইঞ্জিন নম্বরটি ঘষে তুলে ফেলা হয়েছে। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি পুলিশ আটক করলেও।

মোটরসাইকেল মালিকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার মামলা করা হয়নি। অপরদিকে পুলিশের অভিযানের কারণে ডিমলায় রেজিস্ট্রেশন বিহিন মোটরসাইকেল ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। পুলিশ অভিযানের কারণে রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করছে না। ডিমলা কমিউনিটির পুলিশের সাহায্যে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ডিমলা থানা পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালানোর  প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। ডিমলা থানার ওসি রহুল আমিন খান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রেজিস্ট্রেশন বিহিন মোটরসাইকেল ধরার অভিযান অব্যহত রয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন না করে কোনো মোটরসাইকেল চালাতে পারবে না মোটরসাইকেল মালিকগন। নীলফামারীর বিআরটিও কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরল ইসলাম বলেন, আমি দিনাজপুর কর্মরত আছি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নীলফামারীতে সপ্তাহে ১দিন থাকি। তিনি বলেন, একটি গাড়ীর কাগজপত্র যাচাই বাচাই করতে সময় লাগে ২৫-৩০ মিনিট। প্রতিদিন কাগজ জমা দিতে আসেন শতাধিক মোটর সাইকেলের মালিক। যে কারণে সকলের কাগজ জমা নেয়া সম্ভব হয় না। ঘুষ নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বিকার করেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য