মানববন্ধনদিনাজপুর সংবাদাতাঃ আনন্দ স্কুলের শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা গ্রহন, শিক্ষকদের বেতন প্রদানের দাবিতে পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেছে।

সোমবার আনন্দ স্কুলের শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা গ্রহন ও শিক্ষকদের বেতন প্রদানের দাবিতে এ মানববন্ধন করেছে।

শিক্ষক শিক্ষিকারা জানায়, গত জানুয়ারি মাস থেকে স্কুলগুলোর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তারা জানায়, মঙ্গলবার থেকে পার্বতীপুরের ১০৩টি আনন্দ স্কুলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে পার্বতীপুরের ১০৩টি আনন্দ স্কুলের ৩ হাজার শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রক্সের প্রজেক্ট ডাইরেক্টরের নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা অফিস বিদ্যালয়গুলোতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সোমবার পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ চত্তরের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ছোট রাম চন্দ্রপুর আনন্দ স্কুলের শিক্ষক কমলা বেগম, মহোবপুর স্কুলের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও রসুলপুর চৈতা পাড়া স্কুলের শিক্ষক মাসুদ রানা প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালের বেতন, উপবৃত্তি, পোশাক ও উপকরনের টাকাও দেওয়া হয় বিদ্যালয়গুলোতে। সেই সাথে নতুন শিক্ষাবর্ষের বইও পায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অনিবার্য কারণ বসত গত জানুয়ারী/১৫ মাস থেকে স্কুলগুলোর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম বলেন, আনন্দ স্কুলগুলো স্থাপনে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় প্রজেক্ট ডাইরেক্টরের নির্দেশে আনন্দ স্কুলগুলোতে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করা হয়েছে। শিশুরা পরীক্ষা দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দিতে হবে।

এ ব্যাপারে রক্সের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর ড.এম মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পার্বতীপুরের আনন্দ স্কুলগুলো স্থাপনে অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা বন্ধ করা হয়েছে। ওই সব বিদ্যালয়ের শিশুরা যাতে ওই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারে তার জন্য জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১২ মে উপজেলা শিক্ষা কমিটি পার্বতীপুর উপজেলায় ১০৩টি আনন্দ স্কুল অনুমোদন দেয়। নিয়োগ দেওয়া হয় ৮৮ জন শিক্ষিকাসহ ১০৩ জন শিক্ষক। বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেনীতে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য