স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা মোটেও কাম্য নয়- ড. আরেফিন সিদ্দিক

স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর নিউজ ডট কম) ॥ স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার চড়ারহাট বধ্যভুমি স্মৃতি মিনার।
১৯৭১ সালের এই দিনে (১০ অক্টোবর) পাকবাহিনী হত্যা করেছিল ৯৮ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে। স্বাধীনতার ৪০ তম বর্ষে শহীদদের স্বরণে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম দিনাজপুরের উদ্যোগে ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শিবলী সাদিকের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই স্মৃতি মিনার আনুষ্ঠানিক ভাবে আজ সোমবার সকাল ১১ টায় ঊদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ.স.ম.আরিফিন সিদ্দিক।
গতকাল সোমবার উদ্বোধন শেষে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলী, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. আফজাল হোসেন, দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাধারন সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মুক্তিযোদ্ধা অজিত কুমার রায় প্রমুখ।
ড. আ.স.ম আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যে সকল মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে, যাদের রক্তের বিনিময়ে মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তাদের ঋণ শোধ করবার মত নয়। চড়াইহাটের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ৪০ বছর পর হলেও স্মৃতি মিনার নির্মান করা হয়েছে যা এই এলাকাবাসী ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুকরনীয় দৃষ্টানত্ম বা ইতিহাস হয়ে থাকবে।
এই মুক্তিযুদ্ধের যাদের অবদানের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন ভুখন্ড পেয়েছি তাদের পূর্বে যেমন ভুলিনি বর্তমানেও ভুলিনি, ভবিষ্যতেও ভুলবোনা। স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার বিগত ৪০ বছরে বিভিন্ন সময়ে অনেকে আমাদের মহান স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন যা মোটেও কাম্য নয়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে মুক্তিযোদ্ধাসহ আমাদের সকলকে গুরম্নত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে স্মৃতি মিনারের পার্শ্বে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপন করা হয়।
উলেস্নখ্য, ৭১’ এর ৩ অক্টোবর চড়ারহাটের পথ ধরে গরুর গাড়ীতে করে ৮ জন পাক সেনা বিরামপুরের দিকে যাচ্ছিল। পাক সেনারা বিরামপুর থানার বিজুল ও দিওড় গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে পৌছামাত্র মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালিয়ে ৭ জন পাক সেনাকে হত্যা করে কিন্তু ভাগ্যক্রমে ১ জন প্রাণে বেঁচে পালিয়ে গিয়ে খান সেনাদের বিরামপুর আঞ্চলিক ক্যাম্পে সংবাদ দিলে খান সেনারা ােভে ফেঁটে পড়ে।
পালিয়ে যাওয়া ঐ খানসেনার ভুল তথ্যের কারণে দিওড় গ্রামের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জের পুটিমারা ইউ,পির চড়ারহাট (প্রাণকৃষ্ণপুুর) ও সারাইপাড়া (আন্দলগ্রাম) গ্রামে ভোরবেলা মসজিদে ফজরের আযানের সময় শত শত হানাদার গোটা গ্রামটি ঘেরাও করে মেশিনগান, এসএমজি তাক করে থাকে। এসময় একদল পাক হানাদার বাড়ী বাড়ী গিয়ে ধরে আনে বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর ও মহিলাদের। সমবেত করা হয় গ্রামের উত্তর-পূর্বকোণে বিরামপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী জমিতে। ফজরের নামাজ শেষ হওয়া মাত্র আরেক দল পাক হানাদার রাস্তায় মাটি কাটার কথা বলে মসজিদের মুসল্লিদের একই স্থানে সমবেত করে। ভোরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে এক সংগে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দু’গ্রামের নিরীহ বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর ও মহিলারা। মৃত্যু যন্ত্রনার আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে হানাদার পাক সেনাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। হানাদারদের নিষ্ঠুরতায় সেদিন রেহাই পায়নি মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে পুরুষ, মহিলা, কিশোর, যুবক ও গর্ভবতী মা।
এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞে চড়ারহাট (প্রাণকৃষ্ণপুর) ও সারাইপাড়া (আন্দলগ্রাম) গ্রামের ৯৮ জন নিরীহ পুরুষ ও মহিলা শহীদ হন তাদের ভাগ্যে জোটিনি এক টুকরো কাফনের কাপড়। শুধু মশারী, কাঁথা ও শাড়ী-লুঙ্গির কাপড় দিয়ে তাদের দাফন করা হয়। গ্রাম দু’টি প্রায় পুরুষ শুন্য হওয়ায় কবর খোড়ার অভাবে একটি কবরে একাধিক লাশও দাফন করা হয়। হানাদারদের গুলিতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে কোন রকমে প্রাণে বেচে যান ক’জন গ্রামবাসী। অলৌকিক ভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ডাঃ এহিয়া মন্ডল, রহমত, আঃ হামিদ, শিক যথাক্রমে মোজাম্মেল হক, খলিল উদ্দিন ও মোসলেম উদ্দিন, ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, একরাম এখনও সেই ভয়াল নারকীয়তার স্বা্য বহন করছেন। গ্রামবাসী শহীদদের স্মরনে ১টি কলেজ ও ১টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে।##

2 Responses to “স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা মোটেও কাম্য নয়- ড. আরেফিন সিদ্দিক”

  1. A.K.Azad says:

    No its not true that due to attack at Bijool Pak army killed hundreds raped & looted. People of Prankrishnapur & Andalgram were innocent. In the real seance of the ward. They totally unarmed & and peaceful. They were killed only because they were Bangali, It was an offense in the eye of Pakistan. They killed them in cool blood & without any reason. This is Pakistan Army they don’t need any reason.

  2. A.K.Azad says:

    Thanks to the editor to give coverage of the event. I request you to publish pic of the function.

Trackbacks/Pingbacks


    Leave a Reply

    ফটো গ্যালারী

    সর্বশেষ সংবাদ